যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেনে আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ ড্রোন ও বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, রাতভর রাশিয়া ২০০টিরও বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর ফলে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
মধ্য ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পশহর ক্রিভি রিহে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও চারজন। নিহতদের মধ্যে একটি দম্পতির নয় মাস বয়সী নাতনিও ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা এবং সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর ভিলকুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ক্রিভি রিহের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও পৃথক বিমান হামলায় আরও চারজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।
এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন,
“তিন দিনের আংশিক যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পরও রাশিয়া ইউক্রেনীয়দের হত্যা ও পঙ্গু করে চলেছে। তাই তাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কোনোভাবেই কমানো উচিত নয়।”
এদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা পাল্টা হামলায় রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় ওরেনবুর্গ অঞ্চলের একটি গ্যাস স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। স্থাপনাটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ১৭০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর আবারও সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন