সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ রাজপুত্র এবং সাবেক গোয়েন্দা প্রধান প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল বলেছেন, ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাতে না জড়িয়ে কৌশলী অবস্থান গ্রহণ করেছে। তার মতে, এই সিদ্ধান্তের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা থেকে রক্ষা পেয়েছে।
সৌদি মালিকানাধীন গণমাধ্যম আরব নিউজে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলা। তার দাবি, যদি রিয়াদ সেই পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ত, তাহলে ব্যাপক প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারত।
প্রিন্স তুর্কি বলেন, সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, পানি শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো বড় ধরনের হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারত। তবে বর্তমান নেতৃত্ব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে যুদ্ধের পথে না গিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন উস্কানির মুখেও সৌদি আরব ধৈর্য ও সংযম বজায় রেখেছে। বিশেষ করে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশটি যুদ্ধ এড়িয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করেছে।
সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধানের মতে, সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা পাল্টা প্রতিক্রিয়ার পথে যায়নি, কারণ এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারত।
তিনি আরও জানান, বর্তমান উত্তেজনা প্রশমনে সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করছে।
মন্তব্য করুন