মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করবে না। বরং পুরো অঞ্চলে স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান চায় তেহরান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক হুমকি—দুই ধরনের বার্তা আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তুরস্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ বলেন, ‘আমরা অস্থায়ী কোনো যুদ্ধবিরতিতে রাজি নই। সংঘাতের চক্রকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।’ তিনি আরও জানান, যে কোনো সমঝোতায় লেবানন থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত সব সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে, যা ইরানের জন্য একটি ‘রেড লাইন’।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিকভাবে উন্মুক্ত জলপথ। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডই এই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই লেবাননে যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংঘাত উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, কারণ ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকলেও ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীও সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পাকিস্তান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফা আলোচনার নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঠিক হয়নি, তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ফলে একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক চাপ—এই দ্বৈত পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন