যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার আগে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির দাবি, আস্থা পুনর্গঠনের জন্য এসব শর্ত পূরণ করা জরুরি। অন্যথায় দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হবে না।
ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি মঙ্গলবার এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান এই শর্তগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন আলোচনার জন্য ন্যূনতম নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করছে।
ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিশেষ করে লেবাননে সংঘাতের অবসান; ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার; জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা; যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া।
সূত্রটি আরও জানায়, যুদ্ধবিরতির পরও আরব সাগর ও ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের অবিশ্বাস আরও বেড়েছে। এ বিষয়ে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছেও নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে তেহরান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় ফেরার জন্য যে ন্যূনতম আস্থার পরিবেশ প্রয়োজন, এই পাঁচ শর্ত সেই কাঠামোর অংশ। ইরানের মতে, শর্তগুলো বাস্তবায়ন ছাড়া নতুন করে কোনো আলোচনা শুরু করা সম্ভব নয়।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৪ দফা প্রস্তাব ছিল পুরোপুরি একতরফা। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন যুদ্ধের সময় যেসব লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে আদায় করতেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন।
সর্বশেষ, যুদ্ধ বন্ধের মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানালেও ট্রাম্প সেটিকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মন্তব্য করুন