মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে পাকিস্তান ও কাতার। আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে সোমবার ফোনে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। একইসাথে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছে কাতার।
ইসলামাবাদ জানিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বেড়ে যায়। এর জবাবে ইরান ইসরাইলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতেও পাল্টা হামলা চালায়।
এরপর সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয় এবং দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সহায়তা করে। শুধু তাই নয়, ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনেও ভূমিকা রাখে ইসলামাবাদ। যদিও সেই বৈঠক থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি আসেনি, তবে পাকিস্তানের অনুরোধে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, কাতার ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক যোগাযোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা চলছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে দ্বিতীয়বার আলোচনা হলো। এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।
মন্তব্য করুন