খুলনার বটিয়াঘাটায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে সোহেল শেখ (৩৪) নামের যুবদলের সাবেক এক নেতা আহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পাকা সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহত সোহেলকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোহেল শেখ বটিয়াঘাটা উপজেলার বড় কড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা গনি শেখের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সোহেল শেখ মোটরসাইকেলে বসে ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা হঠাৎ তাঁকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়ে। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।
গুলিতে সোহেলের ডান হাত ও পেটের ডান পাশে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সার্জারি ইউনিট-১-এর ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁকে ভর্তি করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোহেল শেখের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও মারামারিসহ সাতটি মামলার তথ্য রয়েছে।
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী জানান, সোহেলকে গুলি করার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশি টহলও জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে ২৪ অক্টোবর খুলনার তেরখাদা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে রামিম বিশ্বাস (৩২) নামের যুবদলের আরেক নেতা আহত হন। মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১০ মাসে খুলনায় গুলি, কুপিয়ে বা অন্য উপায়ে ৭১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬৯টি। একই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি নিহত হওয়ায় নিহতের সংখ্যা ও মামলার সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরোধের মতো বিষয় কাজ করেছে। একের পর এক সহিংসতার ঘটনায় খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন