ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলেও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের বাজারে কমেছে দেশি পেঁয়াজের দাম। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা কমেছে পণ্যটির দাম। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। আমদানি বন্ধ থাকার মধ্যেও দেশি পেঁয়াজের দাম কমায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।
বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার হিলির বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। তবে শুক্রবার সেই দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। অর্থাৎ দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ক্রেতাদের সাশ্রয় হচ্ছে ৫ টাকা।
হিলি বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. মশিউর আলম জানান, বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী। তিনি নাটোরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি দরে পেঁয়াজ সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। বাজারে পেঁয়াজের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। আগে যে পেঁয়াজ ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, এখন তা ৪০ টাকায় এবং ৪০ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। সামনে দাম আরও কমতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা ক্রেতা মো. নাজমুল হক বলেন, এবার দেশি পেঁয়াজের দাম তুলনামূলকভাবে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। কয়েক দিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় কিনতে হয়েছে। অথচ এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।
আরেক ক্রেতা দিনমজুর মো. লুৎফর রহমান জানান, অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম বেশি থাকলেও পেঁয়াজের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন তারা। সংসারের সীমিত আয়ের মধ্যে পেঁয়াজের এই মূল্যহ্রাস তাদের জন্য ইতিবাচক।
এদিকে হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে আমদানি বন্ধ থাকলেও দেশের বাজারে পণ্যটির দাম বাড়েনি। কৃষকদের পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সরকারের দেওয়া বিভিন্ন প্রণোদনার কারণে দেশে উৎপাদন বেড়েছে। ফলে দেশীয় উৎপাদন দিয়েই বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে এবং ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন পড়েনি।
সব মিলিয়ে দেশীয় উৎপাদন ও বাজারে সরবরাহ বাড়ার প্রভাবে হিলিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে। আমদানি বন্ধ থাকার মধ্যেও বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় থাকায় ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে পণ্যটি কিনতে পারছেন।
মন্তব্য করুন