ফুটবল বিশ্বকাপ সবসময়ই নতুন গল্প, আবেগ এবং রেকর্ডের জন্ম দেয়। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে একই পরিবারের একাধিক ফুটবলারের অংশগ্রহণ। এবারের আসরে দেখা যাবে সাত জোড়া সহোদর ফুটবলারকে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে একটি অনন্য নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পেশাদার ফুটবলে জায়গা করে নেওয়াই যেখানে অত্যন্ত কঠিন, সেখানে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ মঞ্চে খেলার সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে অসাধারণ অর্জন। এবার মোট ১৪ জন ফুটবলার সাত জোড়া সহোদর হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে কেউ একই জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন, আবার কেউ খেলবেন ভিন্ন দেশের হয়ে।
সবচেয়ে আলোচিত সহোদর জুটিগুলোর মধ্যে রয়েছেন থিও হার্নান্দেজ ও লুকাস হার্নান্দেজ। স্পেনে জন্ম নেওয়া এই দুই ফুটবলার দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্স জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। লুকাস হার্নান্দেজ ২০১৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলের অংশ ছিলেন এবং ২০২২ বিশ্বকাপেও দলে ছিলেন। সেই আসরে ইনজুরির কারণে লুকাস ছিটকে গেলে তার জায়গায় সুযোগ পান ছোট ভাই থিও, যিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো দুই ভাইকে একসঙ্গে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে দেখা যাবে।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া কেপ ভার্দে ও কুরাসাও দলেও রয়েছে সহোদরদের উপস্থিতি। কেপ ভার্দের হয়ে খেলবেন লারিওস দুয়ার্তে ও দেরয় দুয়ার্তে। অন্যদিকে কুরাসাওয়ের জার্সিতে একসঙ্গে দেখা যাবে লিয়ান্দ্রো বাকুনা ও জুনিনহো বাকুনাকে।
তবে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়গুলোর একটি হলো—কয়েকজন সহোদর ভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এর মধ্যে অন্যতম উইলিয়ামস পরিবার। বড় ভাই ইনাকি উইলিয়ামস খেলবেন ঘানার হয়ে, আর ছোট ভাই নিকো উইলিয়ামস প্রতিনিধিত্ব করবেন স্পেনকে। ক্লাব ফুটবলে একই দলের হয়ে খেললেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের পথ আলাদা।
একই ধরনের গল্প রয়েছে দ্যুয়ে পরিবারেও। বড় ভাই আইভরি কোস্টের হয়ে খেললেও ছোট ভাই দিজেয়ের দ্যুয়ে ফ্রান্সের জার্সিতে মাঠে নামবেন। অন্যদিকে ডেরিক লাকাসেন ও ব্রায়ান ব্রোবিও খেলবেন দুই ভিন্ন দেশের হয়ে। ব্রায়ান নেদারল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করবেন, আর ডেরিক খেলবেন ঘানার হয়ে।
স্টার পরিবারেও দুই ভাইয়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ভিন্ন পথে এগিয়েছে। হ্যারি স্টার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেবেন, আর জন স্টার খেলবেন স্কটল্যান্ডের হয়ে। যদিও গ্রুপ পর্বে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে নকআউট পর্বে ভাগ্য অনুকূলে থাকলে দুই ভাইকে প্রতিপক্ষ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
একই পরিবারের সদস্য হয়েও ভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই গল্পগুলো ফুটবল বিশ্বকাপকে আরও বৈচিত্র্যময় ও আবেগঘন করে তুলেছে। সাত জোড়া সহোদরের উপস্থিতি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি বিশ্ব ফুটবলের বিস্তার, অভিবাসন এবং পারিবারিক উত্তরাধিকারের এক অনন্য প্রতিফলন। সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ দেশগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি ভাইদের এই বিশেষ গল্পগুলোর কারণেও দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকার সম্ভাবনা রাখে।
মন্তব্য করুন