দেশের বাজারে আবারও কমেছে সোনার দাম। এ নিয়ে গত চার দিনে তিন দফায় কমল মূল্যবান এই ধাতুর দাম। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
এর আগে শুক্রবার সোনার দাম ভরিতে কমেছিল ২ হাজার ১৫৮ টাকা এবং বৃহস্পতিবার কমেছিল ১ হাজার ৬৯১ টাকা। সব মিলিয়ে চার দিনে সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৭৩ টাকা কমেছে। তবে এ সময়ে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
রোববার সকালে বাজুস জানায়, দেশের বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ায় নতুন করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে সোনার দরপতনও দেশের বাজারে দাম কমার অন্যতম কারণ। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে:
২২ ক্যারেট: ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা
২১ ক্যারেট: ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা
১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা
দাম কমানোর আগে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।
বিশ্ববাজারেও সোনার দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪৯ ডলার এবং রুপার দাম ১ ডলার ২ সেন্ট কমেছে। গত এক মাসে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে প্রায় ২১৮ ডলার। গত ছয় মাসে কমেছে ৬৫১ ডলার।
সাধারণত যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়তে পারে। তবে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও সোনার দাম কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে মার্কিন ডলারভিত্তিক বন্ডের সুদ বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সেদিকে ঝুঁকেছেন। সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় সুদযুক্ত বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়লে সোনার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমার পেছনে এটিকে অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে সোনার দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের বাজারেও। ফলে ধারাবাহিকভাবে কমছে স্থানীয় বাজারে সোনার দাম।
মন্তব্য করুন