অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে রান্নার গ্যাস

নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি

রান্নার জ্বালানি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট কাটছে না। ১২ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হলেও বাজারে তা কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। কোথাও কোথাও পুরোনো সিলিন্ডার ফেরত না নেওয়ায় নতুন করে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এর মধ্যেই আবারও দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকার বাইরের কয়েকটি জেলার তুলনায় রাজধানীতে দামও বেশি।

এর মধ্যে এলপিজির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগামী ২৯ অক্টোবর এ প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২,৫০০ টাকায়

গত শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের চা বিক্রেতা মো. শাহেদ জানান, ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে তাঁকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে।

অন্যদিকে, মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সুরমা বেগম জানান, গত শুক্রবার তিনি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার ৩০০ টাকায়। অথচ একই দিনে তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলায় এক স্বজন একই আকারের সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার ১০০ টাকায়।

এভাবে এলাকাভেদে দামের পার্থক্য এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা।

আমদানি ও সরবরাহে ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ

এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) ও বিইআরসি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দেশে এলপিজি আমদানির অবকাঠামোগত সক্ষমতা রয়েছে ২৩টি কোম্পানির। তবে আগস্টে ১৩টি এবং সেপ্টেম্বরে ১০টি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করেছে।

কিছু কোম্পানি অন্যদের কাছ থেকে এলপিজি কিনে বাজারে সরবরাহ করছে। আবার কোনো কোনো কোম্পানির সরবরাহ খুবই সীমিত। এতে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পৌঁছানো নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

এলপিজি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজভাড়া বেড়েছে। কিন্তু দেশে দাম সমন্বয় করা হয়েছে ৪ অক্টোবর। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বাজারে মজুত করার প্রবণতা শুরু হয় বলে তাঁদের অভিযোগ। আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে মজুতের কারণে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ।

তবে নির্ধারিত দাম সমন্বয়ের পরও বাজারে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া বন্ধ হয়নি। বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাড়ার যুক্তিতে ব্যবসায়ীরা আবারও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

কোটি কোটি সিলিন্ডার অব্যবহৃত থাকার অভিযোগ

এলপিজি বাজারে সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে বিপুলসংখ্যক সিলিন্ডার অব্যবহৃত পড়ে থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে।

লোয়াব ও বিইআরসি সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ। এর মধ্যে বর্তমানে সক্রিয় ১০টি কোম্পানির সিলিন্ডার রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সিলিন্ডার নিয়মিত ব্যবহারে নেই।

এ ছাড়া সব কোম্পানি মিলিয়ে এলপিজি মজুতের সক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানির সক্ষমতা প্রায় ৯৫ হাজার টন। আমদানি ও সরবরাহ কার্যক্রম সীমিত থাকায় অবকাঠামোর একটি অংশ অব্যবহৃত থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সেলিম খান প্রথম আলোকে বলেন, মজুত একটি সমস্যা হলেও তার চেয়েও বড় সমস্যা হলো প্রায় আড়াই কোটি সিলিন্ডার অলস পড়ে থাকা। ১০ থেকে ১২টি কোম্পানি এলপিজি সরবরাহ করছে না। এতে পরিবেশকেরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন এবং গ্রাহকদেরও ভোগান্তি হচ্ছে।

তাঁর মতে, অব্যবহৃত সিলিন্ডারগুলো কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করা গেলে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব।

পুরোনো সিলিন্ডার ফেরত না নেওয়ায় বাড়ছে ভোগান্তি

বন্ধ বা অনিয়মিতভাবে ব্যবসা করা কোম্পানির সিলিন্ডার খুচরা বিক্রেতারা নিতে চান না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কোনো কোনো গ্রাহককে পুরোনো সিলিন্ডার রেখে নতুন সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানিগুলোর সিলিন্ডার ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত। নিয়মিত ব্যবসা করা কোম্পানিগুলো সিলিন্ডারের ব্যবহার ও সরবরাহ বাড়াতে পারলে বাজারের চাপ কমতে পারে।

এলপিজি সরবরাহব্যবস্থায় একটি সিলিন্ডার গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে এবং পুনরায় ভরে বাজারে ফিরতে একাধিক সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। ফলে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার সচল না থাকলে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে মাসে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার টন এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। ১২ কেজি হিসাবে এতে মাসে প্রায় ১ কোটি সিলিন্ডারের সমপরিমাণ গ্যাস হয়। সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার থাকা জরুরি।

বিইআরসি বলছে, আমদানি কমেনি

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এলপিজি আমদানি কমেনি। তাই সরবরাহ সংকট হওয়ার কথা নয়। যেসব কোম্পানি আমদানি করতে পারছে না, তাদের ঋণপত্র খোলার প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে জ্বালানি বিভাগকে চিঠি দিয়েছে কমিশন।

তিনি জানান, জ্বালানি বিভাগ এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। অন্য কোম্পানির সিলিন্ডার কেনা, দাম সমন্বয় এবং পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে শুনানিতে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর সিদ্ধান্ত জানাবে কমিশন।

এদিকে, ফ্রেশ এলপি গ্যাসের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা প্রথম আলোকে বলেন, এলপিজি সংকট শিগগিরই কাটবে। ইতিমধ্যে পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। আগামী মাসে সরবরাহ সংকট থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আমদানি বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানান তিনি।

ঋণপত্র খুলতে না পারার কথা বলছে কিছু কোম্পানি

এলপিজি আমদানি বন্ধ রাখা কয়েকটি কোম্পানির দাবি, গত দুই বছর ধরে তারা ঋণপত্র খুলতে সমস্যায় পড়ছে। শতভাগ অর্থ জমা না দিলে ব্যাংক ঋণপত্র দিচ্ছে না। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় লেনদেনেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব কারণে তারা আমদানি বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছে।

অন্যদিকে, নিয়মিত আমদানি করা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমানে আমদানিতে বাধা নেই। যেসব কোম্পানির ব্যাংকঋণ ও দায় বেশি, তাদের আর্থিক সমস্যার কারণে আমদানি ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পর্যাপ্ত কি না, তা নিয়ে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

লোয়াবের সভাপতি আমিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আমদানি বাড়িয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বাজার স্থিতিশীল রাখা কঠিন। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি পর্যায়ে সরকারের নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের কমিশন বাড়ানোর দাবি

বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির বিষয়ে গত ৬ অক্টোবর বিইআরসি এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতিকে চিঠি দেয়। সমিতির দাবি, বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ কারণে প্রতি সিলিন্ডারে পরিবেশকদের কমিশন ৮০ টাকা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তারা। এর পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতাদের কমিশনও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

অন্যদিকে, আমদানিকারক কোম্পানিগুলো বলছে, বিইআরসি সাধারণত সৌদি আরবের ঘোষিত কার্গো মূল্য, জাহাজভাড়া, বিমা, ডলারের বিনিময় হার ও জ্বালানি তেলের দাম বিবেচনা করে প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয় করে। কিন্তু গত পাঁচ বছরে অন্যান্য খরচও বেড়েছে। তাই দাম পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে বলে তাদের দাবি।

ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় নজরদারির দাবি

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, কয়েকটি কোম্পানি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর দাবি, এক মাসেই ৬০০ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে।

তিনি বাজারে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের কথাও বলেন তিনি।

এদিকে, রান্নার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কেউ কেউ বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্য বাড়তি দাম ও সিলিন্ডারের সংকট বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগামী ২৯ অক্টোবর বিইআরসির গণশুনানিতে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন এবং বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। শুনানির পর কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এলপিজির নতুন দাম ও বাজার পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সেপ্টেম্বরের ২৫ দিনে ১১৪ মৃত্যু, চলতি বছরে আক্রান্ত ৭০ হাজার

1

নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস: সরকারি কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ৭

2

এবার মেসি ম্যাজিকে বশে এল ঘানার সেই তান্ত্রিক, ডাকলেন ‘ভাই’

3

স্পেন নাকি আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপের ট্রফি উঠবে কার হাতে, সুপ

4

আজও ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর

5

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতলো বাংলাদেশ, নিশ্চিত এশিয়ান চ্য

6

জাপানে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প

7

৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

8

ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে হবে : ট্রাম্প

9

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ভরাডুবি নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি পেলে কন্যার

10

‘মানুষের এখন পুরো একটি ট্র্যাক শোনারও ধৈর্য নেই’

11

ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিতে রেকর্ড ভাঙলেন মুশফিক

12

এইচএসসিতে নকল পেলে প্রতিষ্ঠানপ্রধানও শাস্তির মুখে

13

তাপপ্রবাহে ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড

14

মেসি-রোনালদোর মতো কিংবদন্তিরা কি রেফারির কাছে আলাদা সুবিধা প

15

বিলুপ্ত হলো র‍্যাব, সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল পাস

16

সারা দেশে কালবৈশাখীর আশঙ্কা

17

আমির, সালমান ও রণবীরের বাসভবনেও গিয়েছিলেন বন্দুকধারীরা

18

হামলার ঘটনার পর বাঁধন বললেন, ‘আমি এটার শেষ দেখে ছাড়ব’

19

চুক্তি হলেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে : ট্রাম্প

20