মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করে সেগুলো ইরানের উপকূলে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, এর আগে ইরানের উপকূলবর্তী এলাকায় একটি জাহাজে গুলিবর্ষণ এবং ওমান উপকূলে আরেকটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে তারা “রেড লাইন” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ঘটনাস্থলের কাছাকাছি, মাস্কাট থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে একটি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া যায়। ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হামলায় জাহাজটির ব্রিজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, আইআরজিসির একটি গানবোট কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই কন্টেইনার জাহাজটির দিকে গুলিবর্ষণ করে। তবে জাহাজটির মাস্টার জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো অগ্নিকাণ্ড বা পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেনি এবং সব নাবিক নিরাপদ আছেন।
অন্যদিকে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, একটি জাহাজের বিরুদ্ধে “সমুদ্র আইন” প্রয়োগ করা হয়েছে, কারণ সেটি একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল বলে দাবি করেছে তেহরান।
এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে এই ধরনের পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমাধান এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন