ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ‘এ’ গ্রুপে দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে দক্ষিণ কোরিয়া। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে এক সময় পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করেছে এশিয়ার শক্তিশালী দলটি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি। মাঝমাঠের লড়াই ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় প্রথম ৪৫ মিনিট গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়। ফলে বিরতির সময় সমতায় থেকেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি বেড়ে যায় এবং ম্যাচে আসে নাটকীয়তা। ৫৯তম মিনিটে প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র। লম্বা থ্রো-ইন থেকে আসা বলকে নিখুঁত হেডে জালে পাঠিয়ে দলকে লিড এনে দেন লাডিস্লাভ ক্রেইচি। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইউরোপের প্রতিনিধিরা।
তবে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি দক্ষিণ কোরিয়া। মাত্র আট মিনিট পরই ম্যাচে সমতা ফেরায় তারা। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ফাঁক কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে গোল করেন মিডফিল্ডার হোয়াং ইন-বিওম। তার নেওয়া শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়ালে ম্যাচে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় কোরিয়ানরা।
৭৭তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল চেক প্রজাতন্ত্র। ফ্রি-কিক থেকে টমাস সউচেক বল জালে পাঠিয়ে উদযাপনও শুরু করেছিলেন। কিন্তু সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকায় সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। ভিডিও রিপ্লেতেও সিদ্ধান্তটি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়।
গোল বাতিলের ধাক্কা সামলে দ্রুত আক্রমণে মনোযোগ বাড়ায় দক্ষিণ কোরিয়া। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে হোয়াং ইন-বিওমের দারুণ এক ক্রস থেকে গোল করেন হিউন-গিউ ওহ। কাছ থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট গোলরক্ষকের হাতে লেগেও জালে জড়িয়ে গেলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া।
শেষদিকে চেক প্রজাতন্ত্র সমতাসূচক গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায়। নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে ছয় মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করা হলেও দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণভাগ ছিল অটুট। ফলে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানের মূল্যবান জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে এশিয়ান দলটি।
এই জয়ের মাধ্যমে ‘এ’ গ্রুপে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। একই দিনে জয় পাওয়া স্বাগতিক মেক্সিকোর সঙ্গে সমান তিন পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল কোরিয়ানরা। কামব্যাক জয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্যও ইতিবাচক বার্তা দিল দক্ষিণ কোরিয়া।
মন্তব্য করুন