অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে স্বামীর কবরের পাশেই দুই সন্তান নিয়ে আশ্রয় নিলেন স্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

শ্বশুরবাড়িতে তার ও সন্তানদের জন্য জায়গা না পেয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্বামীর কবরের পাশেই দুই সন্তানকে নিয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে দিন কাটাচ্ছেন সোনিয়া বেগম। 

তার পাশে বসে থাকে ৯ বছর বয়সী অবুঝ কন্যা ছোঁয়া, আর কোলে রয়েছে মাত্র ১৮ মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য ছেলে। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে গভীর সহানুভূতি ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনিয়া আক্তারের স্বামী সুজন মাহমুদের অকাল মৃত্যুর পর থেকেই বিপর্যয়ে পড়েন তিনি। সোনিয়ার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার স্বামী ধুঁকে ধুঁকে মারা যান।

স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই সোনিয়া জানতে পারেন, শ্বশুরবাড়িতে তার ও সন্তানদের জন্য আর কোনো জায়গা নেই। তার দাবি, শ্বশুর কফিল উদ্দিন ও শাশুড়ি তাদের মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এমনকি স্বামীর দাফনের সময়ও শ্বশুর ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্বামী হারানোর বেদনার মধ্যেই দুই সন্তানকে নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন সোনিয়া। তার অসহায় অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের পরিবার মানবিক কারণে কিছুদিন আশ্রয় দিলেও পরবর্তীতে আইনি জটিলতার আশঙ্কায় সেটি স্থায়ী হয়নি।

সবশেষে কোথাও ঠাঁই না পেয়ে বাধ্য হয়ে স্বামীর কবরের পাশেই অবস্থান নেন তিনি। বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছোট্ট ছোঁয়ার কান্না উপস্থিত মানুষের হৃদয় স্পর্শ করছে।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সোনিয়া বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, স্বামীর লাশ ফেলে শ্বশুর চলে গিয়েছিলেন। এখন এই দুই সন্তান নিয়ে আমি কোথায় যাব? আমার তো যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। শ্বশুরবাড়িতে থাকার অধিকারটুকুও দিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে স্বামীর কবরের পাশেই বসে আছি— আল্লাহ যদি কোনো ব্যবস্থা করেন।

১৮ মাস বয়সী শিশুটি পরিস্থিতি বুঝতে না পারলেও বড় মেয়ে ছোঁয়া যেন বাবার ভিটায় একটু আশ্রয়ের জন্য নীরব লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। 

এলাকাবাসীর অনেকে মনে করেন, পারিবারিক বিরোধ ভুলে অন্তত শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দাদা-দাদির পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তারা পাচ্ছে অবহেলা ও অনিশ্চয়তা।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন— একটি অসহায় পরিবার কি সমাজের চোখের সামনেই এভাবে আশ্রয়হীন হয়ে থাকবে?

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মীরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সোনিয়া ও তার সন্তানদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করে নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। সম্ভব না হলে আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচে ‘ইচ্ছাকৃত পক্ষপাতের কোনো প্রমাণ পাইন

1

ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের নকআউটে আইভরিকোস্ট

2

মেসির হাতে আরেকটি বিশ্বকাপ দেখতে চাই না

3

ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন এক কথায় অবাস্তব এবং অসম্ভব: সারজিস আ

4

রাহুল গান্ধীর দ্বৈত নাগরিকত্ব বিতর্কে হাইকোর্টের তদন্ত নির্দ

5

সংসদে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার বয়সসীমা বাতিল বিল পাস

6

খুলনায় মোটরসাইকেলে বসে থাকা যুবদলের সাবেক নেতাকে গুলি

7

আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশে জামাতিদের অস্বস্তি বেড়ে

8

হরমুজ প্রণালিতে কড়া নিয়ন্ত্রণে ইরান

9

ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

10

ইরানে শান্তিচুক্তি বিরোধী বিক্ষোভ, আরাগচির বিরুদ্ধে স্লোগান

11

ধানমন্ডি-৩২ এ জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

12

হত্যাচেষ্টা মামলায় আবারও গ্রেফতার দেখানো হলো মমতাজকে

13

শর্ত মানছে না ইসরাইল, লেবাননে ব্যাপক হামলায় নিহত ১০

14

পশু জবাই বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে জনস্বার্থ মামলা মহ

15

শিশুদের অ্যালার্জি কমানোর নতুন উপায়

16

অফসাইড বিতর্ক কমাতে নতুন প্রযুক্তির যুগে ফিফা

17

ইংলিশ ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডা

18

সিএনএন’র প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার মারা গেছেন

19

ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব দুই দেশেই পড়ছে: রিজভী

20