মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীতে বিশেষ হালকা সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ইরান। দেশটির নৌবাহিনীর দাবি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের রণতরি মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের এই সামরিক তৎপরতা নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এক বক্তব্যে জানান, বর্তমান সময়ের হুমকি, সামরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই হরমুজ প্রণালীর পানিসীমায় এই বিশেষ ডুবোজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সাবমেরিন যেকোনো ধরনের হুমকি শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্ষম।
ইরানি নৌবাহিনীর দাবি, এসব হালকা সাবমেরিন দীর্ঘ সময় সমুদ্রের গভীরে আত্মগোপন করে অবস্থান নিতে পারে। প্রয়োজন হলে সেখান থেকেই শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ শনাক্ত এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা রয়েছে এগুলোর। বিশেষ করে গোপন নজরদারি ও আকস্মিক হামলার জন্য এসব ডুবোজাহাজকে অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করছে তেহরান।
নৌবাহিনীর সদস্যদের কাছে এই ডুবোজাহাজগুলো ‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ নামে পরিচিত। ইরানের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই সম্প্রতি এগুলোকে প্রকাশ্যে আনা হয় বলে জানিয়েছেন দেশটির নৌপ্রধান।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ‘দেনা’ নামের একটি ডেস্ট্রয়ারের শহীদ সদস্যদের স্মরণে আয়োজিত বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশ নেয় এসব সাবমেরিন। অভিযানের সময় সমুদ্রপৃষ্ঠে উঠে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় ডুবোজাহাজগুলো। পরে বিভিন্ন মহড়া শেষ করে আবারও গভীর সমুদ্রে ফিরে যায় তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের এই সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেশটির সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতারও একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন