মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ ৮৯ হাজার বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
মঙ্গলবার সংসদে সিলেট-৬ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরীর এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর ১৩ এপ্রিলের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধানে কাজ করছে। তিনি অতীতের বিভিন্ন সময়কার প্রত্যাবাসন উদ্যোগের উদাহরণ টেনে বলেন, বিভিন্ন সরকারের সময়েও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।
বর্তমান সরকারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। লক্ষ্য হলো পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।
ড. খলিলুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলায় নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চলমান মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে শুনানি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্ত কার্যক্রম এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন তদন্ত প্রক্রিয়াতেও বাংলাদেশ তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে সহায়তা করছে বলে জানান তিনি।
সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো তাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। এজন্য বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে
মন্তব্য করুন