মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে ইরান। দেশটি সম্প্রতি একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর উপকূলীয় অঞ্চলের একটি বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন বলে দাবি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরান তাদের নতুন মানচিত্রে লাল রেখা দিয়ে সমুদ্রসীমা সম্প্রসারণের বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। এই দাবিকৃত অঞ্চল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে আমিরাতের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত।
ইরানের দাবির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরা বন্দর এবং খোরফাক্কান বন্দর। ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত এই বন্দর দুটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প রুট হিসেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুজাইরা বন্দরটি আবুধাবির তেল পাইপলাইনের শেষ প্রান্ত হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেশি। এখান থেকে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে তা আমিরাতের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি এসব বন্দরের প্রবেশপথ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়, তাহলে তা কার্যত সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর নৌ-অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
এদিকে সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলেও বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক উত্তেজনার পর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অনেকটাই কমে গেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে ইরান। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি মায়েরস্ক জানিয়েছে, তাদের একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ সামরিক পাহারায় পারস্য উপসাগর ত্যাগ করেছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও জটিল আকার ধারণ করছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন