আজ ২২ এপ্রিল, বিশ্ব ধরিত্রী দিবস। প্রতিবছরের মতো এ বছরও পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার অঙ্গীকার নিয়ে দিনটি বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষকে পরিবেশ সচেতন করতে উদ্যোগ নিয়েছে।
১৯৭০ সালে প্রথমবারের মতো এ দিবস পালন শুরু হয়। মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশ দূষণ, বন উজাড়, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলো সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি বৈশ্বিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
এই দিবসের ধারণা প্রথম উঠে আসে ১৯৬০-এর দশকে, যখন মার্কিন সিনেটর গেলর্ড নেলসন পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে শুরু করেন। পরে তিনি এ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেন এবং জনমত গড়ে তুলতে কাজ চালিয়ে যান। দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলেই ১৯৭০ সালে ২২ এপ্রিলকে ‘ধরিত্রী দিবস’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্রে “এনভায়রনমেন্টাল টিচ-ইন” নামে এই দিবস পালন করা হলেও পরবর্তীতে তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ দিবসটিকে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করে এবং সদস্য দেশগুলোকে এটি পালনে উৎসাহিত করে। এরপর থেকে এটি ‘বিশ্ব ধরিত্রী দিবস’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই দিবসটি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। উত্তর গোলার্ধে এটি বসন্তকালে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকালে উদযাপিত হয়।
বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান র্যালি, আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হওয়ায় এ দিবসের গুরুত্ব এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
পরিবেশবিদরা বলছেন, শুধু একদিনের কর্মসূচি যথেষ্ট নয়; বরং দৈনন্দিন জীবনে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে জরুরি। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, গাছ লাগানো এবং পানির অপচয় রোধের মতো ছোট উদ্যোগগুলোই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
বিশ্ব ধরিত্রী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—পৃথিবী রক্ষার দায়িত্ব সবার, এবং সেই দায়িত্ব পালনে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন