চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
এর আগে পানামা অভিযোগ করেছিল, চীনের বিভিন্ন বন্দরে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ আটকে রাখার ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। পানামা সরকারের দাবি ছিল, এসব পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ইঙ্গিত রয়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পানামা খালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে। আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করা এই খাল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট।
গত জানুয়ারিতে পানামার সুপ্রিম কোর্টের এক সিদ্ধান্তের পর সরকার পানামা খালের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। এর আগে হংকংভিত্তিক একটি কোম্পানি ওই বন্দর দু’টি পরিচালনা করত। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে বলে ধারণা করা হয়।
প্রেসিডেন্ট মুলিনো বলেন, আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পর চীনের বন্দরে পানামার জাহাজ আটকে রাখার ঘটনা অনেক বেড়ে যায়। তিনি এটিকে এক ধরনের প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চীনের বন্দরে আটকে থাকা জাহাজের সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে এবং বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে আইনগত সমাধানের বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।
মুলিনো এই উদ্যোগকে “বড় অগ্রগতি” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই বিরোধ সমাধান হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, বন্দর আটকে রেখে বা বাণিজ্যিক জটিলতা তৈরি করে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পানামা খালকে ঘিরে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা আগামী দিনেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকবে। তবে সাম্প্রতিক এই ইতিবাচক অগ্রগতি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সহায়ক হতে পারে।
মন্তব্য করুন