কুয়াশাচ্ছন্ন উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের একটি মাঠে গভীর রাতে ভ্যানের ভেতর বসে আছেন কয়েকজন সৈন্য। মনিটরের স্ক্রিনে ছোট ছোট আলো নড়াচড়া করছে, আর তাদের হাতে থাকা রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে তারা আকাশে নজর রাখছেন। এই দলটি বর্তমানে ইউক্রেন-এর আকাশ প্রতিরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে রাশিয়ার ব্যবহার করা ভয়ঙ্কর ড্রোন হামলা প্রতিহত করা, যেগুলো সাধারণভাবে ‘শাহেদ ড্রোন’ নামে পরিচিত। এই ড্রোনগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে বলে দাবি করছে ইউক্রেন।
ইউক্রেনীয় সেনাদের মতে, প্রতিটি ড্রোনকে আকাশেই ধ্বংস করা এখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এজন্য তারা বিভিন্ন ধরনের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি ড্রোন ধ্বংস করতে একাধিক প্রতিরোধমূলক ড্রোনও ব্যবহার করতে হচ্ছে।
রাশিয়ার এই ড্রোনগুলো প্রতিনিয়ত আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। আগের তুলনায় এগুলোর গতি অনেক বেড়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে জেট ইঞ্জিন ব্যবহার করায় এগুলো আরও দ্রুত আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। ফলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও ক্রমাগত আপগ্রেড করতে হচ্ছে।
এই ড্রোনগুলো মূলত ইরানের নকশা অনুসরণে তৈরি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের সময় এগুলো উচ্চ শব্দ করে উড়ে যায়, যার কারণে স্থানীয়রা এগুলোকে ভিন্ন নামে ডাকছে।
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা এখন একাধিক স্তরে কাজ করছে। মেশিনগান বসানো যানবাহন, ইলেকট্রনিক জ্যামিং সিস্টেম এবং যুদ্ধবিমান—সবকিছু মিলিয়ে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়া এখন কিছু ড্রোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যা আক্রমণের পথ আরও সুনির্দিষ্ট করে তুলছে। এটি প্রতিরক্ষার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
তবে ইউক্রেনের বড় শক্তি হলো তাদের উদ্ভাবনী কৌশল। তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ব্যবহার করে তারা উচ্চমূল্যের আক্রমণাত্মক ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।
যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে আকাশ প্রতিরক্ষা এখন শুধু সামরিক কৌশল নয়, বরং টিকে থাকার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনই মূল ভরসা।
মন্তব্য করুন