মিয়ানমারে বন্দিদের সাজা কমানোর সরকারি ঘোষণার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেতা Aung San Suu Kyi। সামরিক সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে তার কারাদণ্ড আরও কমতে পারে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার দেশটির সামরিক প্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া Min Aung Hlaing ঘোষণা দেন, সব বন্দির অবশিষ্ট সাজা এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হবে। একটি সরকারি ছুটি উপলক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সুচির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে বর্তমানে তার কত বছরের সাজা বাকি রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন National League for Democracy (এনএলডি)-এর এক জ্যেষ্ঠ সদস্য।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই সুচি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বন্দি রয়েছেন। সেই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। এরপর দুর্নীতি, কোভিড-১৯ বিধি লঙ্ঘনসহ একাধিক অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর কৌশল। বন্ধ আদালতে বিচার শেষে প্রথমে তাকে ৩০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০২৩ সালে কিছু অভিযোগে আংশিক ক্ষমা পাওয়ার পর তার সাজা কমে ২৭ বছরে দাঁড়ায়।
বর্তমান ঘোষণার ফলে সেই সাজা আরও কমতে পারে, তবে মিয়ানমারের বিচার প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতার কারণে চূড়ান্ত হিসাব এখনো অনিশ্চিত।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সরকারের এই পদক্ষেপ আংশিকভাবে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলা এবং নিজেদের ভাবমূর্তি উন্নত করার প্রচেষ্টা হতে পারে। তবে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
মন্তব্য করুন