হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরে এসেছে, তবে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যত নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ কেটে যায়নি। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথের নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে গভীর শঙ্কায় আছে। মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত চরমসীমা শেষ হওয়ার মাত্র ৯০ মিনিট আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর আগে ট্রাম্প ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন, এবং তেহরানও বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রণালিটি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল, তবে যুদ্ধবিরতির শর্তে ইরান জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে রাজি হয়েছে। ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফার পরিকল্পনার একটি শর্ত হলো, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে থাকবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতির এই দুই সপ্তাহের মধ্যে জাহাজ চলাচল কেবল ইরানি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই সম্ভব হবে।
উপসাগরীয় দেশগুলো উদ্বিগ্ন যে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকলে এটি আন্তর্জাতিক তেল বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশ এই প্রণালির নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি নয়, বরং বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনও রাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেল ও এলএনজি সরবরাহকে প্রভাবিত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধবিরতির পরও উপসাগরীয় দেশগুলোতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে শঙ্কা অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নয়, বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পথ। ইরান যদি প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, তবে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক বাজার সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
মন্তব্য করুন