ক্ষমতা হারানোর পর রাজনৈতিক সংকটে পড়া আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে দ্রুত দেশে ফিরে এসে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের মতে, সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি এখন অত্যন্ত জরুরি।
তৃণমূল নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থান করে দল পরিচালনা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তারা মনে করছেন, দূর থেকে নির্দেশনা দিয়ে সংগঠন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে না থাকায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে এবং কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আশা করেছিলেন রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে এবং দলীয় কার্যক্রম আবার শুরু করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ঢাকার বাইরে এক উপজেলা পর্যায়ের নেতা জানান, তারা ভেবেছিলেন পরিস্থিতি শিথিল হবে, কিন্তু এখনকার বাস্তবতায় তা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির। কিছু এলাকায় সীমিতভাবে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা হলেও তা নানা বাধার মুখে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থেকে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। পদধারী বা মামলার মুখোমুখি নেতারা এলাকায় সক্রিয় হতে না পারায় সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ছে।
তৃণমূল নেতাদের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মাঠে সক্রিয় না হলে দলকে পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়। রাজধানীতে শক্ত অবস্থান তৈরি না করতে পারলে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনকে পুনরায় সক্রিয় করা কঠিন হবে বলেও তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, দলের নেতৃত্ব দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতির কারণে দলের কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আইনি পরিবেশ আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিষ্ক্রিয়তা মিলিয়ে দলটির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
মন্তব্য করুন