অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
সোমবার (৮ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. সোলায়মান (৪৭), মো. সাগর মিয়া (২৮) এবং মো. জুয়েল রানা (৩২)।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, মো. সোলায়মানকে টাঙ্গাইলের কাগমারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় তার মালিকানাধীন একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল সদর থানার কলেজপাড়া এলাকা থেকে সাগর মিয়া ও জুয়েল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সিপিসি দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে পরিচালিত একাধিক অনলাইন বেটিং ওয়েবসাইটের কার্যক্রম শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার সাইটের প্রচারণাও চালানো হচ্ছিল।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্ট এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছিল। এ ঘটনায় বেটিং প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন থানা-এ একটি মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন বেটিংয়ের জন্য এজেন্ট নিয়োগ করতেন। এসব এজেন্টের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে জুয়ার ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে কমিশন কেটে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হতো।
সিআইডির তদন্তে অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত একটি এজেন্ট নম্বরের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনলাইন বেটিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত এজেন্ট সিম, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, তারা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে এজেন্ট সিম ও আর্থিক হিসাব সরবরাহ করতেন, যা অনলাইন জুয়ার অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হতো। তদন্তকারীদের দাবি, মো. সোলায়মান তার এজেন্ট সিম অর্থের বিনিময়ে সাগর মিয়ার কাছে সরবরাহ করতেন। অন্যদিকে সাগর মিয়া ও জুয়েল রানা এমএফএসের ডিস্ট্রিবিউটর সেলস অফিসার (ডিএসও) হিসেবে কমিশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে জুয়ার নেটওয়ার্কে সরবরাহ করতেন।
সিআইডি জানিয়েছে, অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত বৃহত্তর নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন