ফুটবলপ্রেমীদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬। প্রথমবারের মতো তিন দেশ—মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা—যৌথভাবে এই আসরের আয়োজন করছে। ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টটি আকার, পরিসর এবং আয়োজনের দিক থেকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে। স্বাগতিক মেক্সিকো টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে গড়াবে।
প্রায় ছয় সপ্তাহব্যাপী চলা এই ফুটবল উৎসবের পর্দা নামবে আগামী ১৯ জুলাই। ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অবস্থিত ৮২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো সমর্থক ইতোমধ্যে তিন স্বাগতিক দেশে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।
এবারের বিশ্বকাপে নজর থাকবে কয়েকজন তারকা ফুটবলারের দিকে। ৩৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসি কি আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে পারবেন, নাকি ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পর্তুগালকে এনে দেবেন তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা—এই প্রশ্ন এখন ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পাশাপাশি হ্যারি কেনের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডও দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটানোর স্বপ্ন দেখছে।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি Gianni Infantino এই আসরকে ‘পৃথিবীর দেখা সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রদর্শনী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই টিকিটের উচ্চমূল্য, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে নানা বিতর্ক সামনে এসেছে।
বিশেষ করে টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা গেছে। ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের তুলনায় এবারের সর্বোচ্চ মূল্য কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। অনেক ম্যাচের টিকিট এখনও পুনর্বিক্রয় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, যা আয়োজকদের জন্যও একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিশ্বকাপকে ঘিরে আলোচনা থেমে নেই। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা কিছু দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ইরান দলের কিছু কর্মকর্তা ভিসা না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছে।
এবারের আসরে দলসংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে। ফলে গ্রুপ পর্বে মোট ৭২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। এতে নকআউট রাউন্ডে অংশ নেবে মোট ৩২টি দল।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ বেশ কয়েকটি নতুন নিয়মও কার্যকর করা হচ্ছে। তীব্র গরম ও আর্দ্রতার কারণে প্রতিটি ম্যাচে নির্ধারিত কুলিং ব্রেক থাকবে। এছাড়া সময়ক্ষেপণ রোধে দলগুলোকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে খেলোয়াড় পরিবর্তন সম্পন্ন করতে হবে। বর্ণবাদবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে মাঠে নির্দিষ্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে নতুন ফরম্যাট, নতুন নিয়ম, তারকাদের লড়াই এবং তিন দেশের যৌথ আয়োজন—সবকিছু মিলিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় ও আলোচিত আসর। ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি চোখ এখন এই মহাযজ্ঞের দিকেই নিবদ্ধ।
মন্তব্য করুন