ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই গৌরব, আবেগ এবং ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জনের প্রতীক। তবে এই বিশ্বকাপ ট্রফিকে ঘিরে এমন দুটি ঘটনা রয়েছে, যা পুরো ফুটবল দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিল। ইতিহাসে দুইবার চুরি হয়েছিল বিশ্বকাপ ট্রফি।
তখন বর্তমান বিশ্বকাপ ট্রফি ছিল না। সেই সময় ব্যবহার করা হতো বিখ্যাত জুলে রিমে কাপ, যা ছিল বিশ্বকাপের আসল প্রতীক। আর এই ট্রফিকেই ঘিরে ঘটে যায় দুইটি চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা।
প্রথম ঘটনা ঘটে ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সময়। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রফিটি সাধারণ মানুষের দেখার জন্য প্রদর্শনীতে রাখা হয়। কাচের বাক্সে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকলেও নিরাপত্তার দুর্বলতার সুযোগে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়।
ঘটনার পর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে একটি ফোন আসে, যেখানে চোরেরা দাবি করে ট্রফিটি তাদের কাছে রয়েছে এবং মুক্তিপণ দিলে তা ফেরত দেওয়া হবে। তদন্তে এডওয়ার্ড বেটলি নামে এক সাবেক সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তার কাছ থেকে ট্রফিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পরে ‘পিকেলস’ নামের একটি কুকুর দক্ষিণ লন্ডনের একটি ঝোপের মধ্যে মোড়ানো অবস্থায় ট্রফিটি খুঁজে পায়। পরে ট্রফিটি পুনরুদ্ধার করা হয় এবং ইংল্যান্ড সেটি নিয়েই বিশ্বকাপ জয় উদযাপন করে।
দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে ব্রাজিলে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশ যদি তিনবার বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে জুলে রিমে কাপ স্থায়ীভাবে তাদের দেওয়া হতো। ১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ট্রফিটির স্থায়ী মালিকানা পায়।
এরপর রিও ডি জেনেইরোতে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের কার্যালয়ে ট্রফিটি রাখা হয়। বুলেটপ্রুফ কাচের বাক্সে সংরক্ষিত থাকলেও নিরাপত্তার একটি বড় দুর্বলতা ছিল কাঠের কাঠামো।
এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ১৯৮৩ সালে ট্রফিটি আবার চুরি হয়ে যায়। তদন্তে জানা যায়, সের্জিও পেরাল্তা নামের এক ব্যাংকার এই পরিকল্পনা করেন। পরে এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক ডেকরেটর এই চুরিতে অংশ নেয়।
পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করলেও ট্রফিটি আর কখনো উদ্ধার করা যায়নি। তদন্তে উঠে আসে, একজন স্বর্ণকার ট্রফিটি গলিয়ে সোনা আলাদা করে ফেলেন। ফলে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মূল্যবান প্রতীকটি চিরতরে হারিয়ে যায়।
মন্তব্য করুন