পোশাক নয়, অপরাধীর মানসিকতাই যৌন সহিংসতার মূল কারণ
ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ :
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২২ পিএম |অনলাইন সংস্করণ
ফাইল ছবি
দেশে যখনই কোনো নারী বা শিশু ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন কিংবা সহিংসতার শিকার হয়, তখন একটি পরিচিত প্রশ্ন সামনে আসে—‘পোশাক কি এর জন্য দায়ী?’ কিন্তু বাস্তবতা ও অসংখ্য ঘটনার বিশ্লেষণ বলছে, যৌন সহিংসতার সঙ্গে ভুক্তভোগীর পোশাকের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। বরং অপরাধীর বিকৃত মানসিকতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গিই এসব অপরাধের মূল কারণ।
বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বহু আলোচিত ঘটনার দিকে তাকালেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি, কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত শিশু রামিসার মতো ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে পোশাককে দায়ী করার সুযোগ নেই। একইভাবে অল্পবয়সী শিশু, এমনকি নবজাতক ও বৃদ্ধ নারীরাও যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ফলে ‘পোশাকই ধর্ষণের কারণ’—এ ধরনের যুক্তি বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না।
গবেষণা ও পরিসংখ্যানও একই চিত্র তুলে ধরে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যৌন সহিংসতার বড় একটি অংশ ঘটে পরিচিত পরিবেশে, এমনকি পরিবারের ভেতরেও। অনেক ক্ষেত্রে শিশু ও কিশোরীরা নিজ বাসা বা নিকটজনের মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার হয়। এসব ঘটনায় পোশাকের ভূমিকা নয়, বরং অপরাধীর সুযোগ নেওয়ার প্রবণতা ও নৈতিক অবক্ষয়ই সামনে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণ কেবল যৌন আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ নয়; এটি ক্ষমতা প্রদর্শন, নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ভুক্তভোগীকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার একটি সহিংস অপরাধ। এ কারণেই বিভিন্ন বয়স, শ্রেণি, ধর্ম ও পোশাকের মানুষ যৌন সহিংসতার শিকার হন। অপরাধীর কাছে ভুক্তভোগীর পোশাক নয়, বরং তার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সমাজবিজ্ঞানীরা আরও মনে করেন, ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার যে সংস্কৃতি বা ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ সমাজে প্রচলিত রয়েছে, সেটি অপরাধীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করে। যখন অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীর পোশাক, চলাফেরা বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তখন প্রকৃত সমস্যাটি আড়ালে থেকে যায় এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হয়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষকদের মতে, কোনো পোশাকই যৌন সহিংসতার অনুমতি বা বৈধতা দেয় না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত গবেষণায়ও দেখা গেছে, ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের পেছনে সামাজিক মানসিকতা, লিঙ্গবৈষম্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্বল বিচারব্যবস্থার প্রভাব বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কঠোর আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে নারী-পুরুষের সমতা, পারস্পরিক সম্মান এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি যৌন সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পোশাককে নয়, অপরাধের প্রকৃত কারণগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
ব্রাজিল দলে মেসিকে চান ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট
1
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমেছে ৯৫ শতাংশ
2
মেসির জন্য স্পেন ছেড়ে আর্জেন্টিনায় খেলতে এসেছেন নিকো পাজ
3
জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ব্যয় মাত্র ৫ লাখ টাকা
4
২০২৬ ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে শীর্ষ পাঁচে যারা
5
জার্মানির বাতিল গোল নিয়ে বিতর্ক, ভিএআর নিয়ে ক্ষুব্ধ জার্মা
6
ইরানকে ঘিরে ফেলছে যুক্তরাষ্ট্র
7
২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিল করছে যুক্তরাষ্ট্র
8
দেশে সারের সংকট নেই, মজুদ ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন: কৃষিমন্ত্রী
9
আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন পাকিস্তান
10
মার্টিনেল্লির গোলে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল
11
১২ বছর পর নকআউটে জার্মানি
12
কলকাতা হাইকোর্টে নিজেই মামলায় লড়লেন মমতা ব্যানার্জী
13
বিশ্বকাপে পরিচ্ছন্নতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জাপানি দর্শকরা
14
গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য স্বস্তির খবর
15
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মোচন করবে ফ্যাসিবাদের মুখোশ: প্রধানমন
16
বিশ্বে ইরানের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে : আব্বাস আরাগচি
17
সন্ধ্যার মধ্যে ৭ জেলায় বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ের আশঙ্কা
18
সন্ধ্যার মধ্যে ৪ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কসংকে
19
নতুন বিয়েতে আগের বিয়ের তথ্য কাবিননামায় দিতে হাইকোর্টের রুল