বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। বিশ্বকাপের বছরগুলোতে এই ট্রফি জয়ের ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। তবে এবারের ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের চিত্রটি বেশ ভিন্ন ও রোমাঞ্চকর। স্পেন বিশ্বকাপ জিতলেও এমন কোনো একক ফুটবলার নেই যাকে নিয়ে কোনো দ্বিমত থাকতে পারে।
২০০৬ সালে ইতালিকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হয়েও ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ফাবিও কানাভারো। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে সেই খেতাব নিজের করে নিয়েছিলেন লুকা মদরিচ। আর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পর লিওনেল মেসির হাতে অষ্টম ব্যালন ডি’অর ওঠা যেন প্রত্যাশিতই ছিল।Sports
গেল মৌসুমে অনেকে ক্লাব ফুটবলে ছিলেন দুর্দান্ত, কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি। আবার কেউ বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়েছেন, কিন্তু ক্লাবের পারফরম্যান্সে পিছিয়ে পড়েছেন। এই অনিশ্চিত ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কথা মাথায় রেখে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ডিএজেডএন তাদের প্রকাশিত পাওয়ার র্যাংকিংয়ে শীর্ষ পাঁচ প্রতিযোগীর তালিকা প্রকাশ করেছে।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক তালিকার শীর্ষে থাকা সেই পাঁচ ফুটবলারকে:
১. হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ / ইংল্যান্ড)
বিশ্বকাপ ট্রফি না জিতলেও পুরো মৌসুমে ধারাবাহিকতার প্রতীক ছিলেন হ্যারি কেইন। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এক মৌসুমে অবিশ্বাস্য ৭০ গোল এবং বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্দেসলিগা শিরোপা জেতেন এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ করেন রানার্সআপ হিসেবে। ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বা তৃতীয় স্থানে তুলতে তার অবদান ছিল ৬টি গোল। বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি না জিতলেও পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ডিএজেডএনের তালিকার সবার ওপরে রয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক।Soccer
২. লামিনে ইয়ামাল (বার্সেলোনা / স্পেন)
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে নামলেও শতভাগ ফিট ছিলেন না লামিনে ইয়ামাল। তবে স্পেনের বিশ্বজয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন এই তরুণ তারকা। গেল মৌসুমে বার্সেলোনাকে লা লিগা জেতানোর পথেও তার পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। বিশ্লেষকদের মতে, যদি টুর্নামেন্টের শেষ দিকে ক্লাব ফুটবলের মতো ধারাবাহিক আধিপত্য দেখাতে পারতেন, তাহলে হয়তো তিনিই থাকতেন ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এক নম্বরে।
৩. রদ্রি (ম্যানচেস্টার সিটি / স্পেন)
ক্লাব পর্যায়ে কিছুটা ছন্দ হারালেও জাতীয় দলের হয়ে আবারও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন রদ্রি। স্পেনের মাঝমাঠকে নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি জিতেছেন গোল্ডেন বল। বিশ্বকাপের এই ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের ভোটে সবসময়ই বড় প্রভাব ফেলে। তাই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের এই মিডফিল্ডারকে এখনও শক্তিশালী দাবিদার হিসেবেই দেখা হচ্ছে।Merit Prizes & Contests
৪. কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ / ফ্রান্স)
এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এছাড়া ২২ গোল নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। তবে ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে তাকে পিছিয়ে দিয়েছে দলীয় সাফল্যের অভাব। রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগা বা চ্যাম্পিয়নস লিগ—কোনোটিই জিততে পারেনি। অন্যদিকে শক্তিশালী ফ্রান্সও বিদায় নিয়েছে সেমিফাইনাল থেকে। ব্যক্তিগত রেকর্ড অসাধারণ হলেও বড় ট্রফির অভাবই এমবাপ্পেকে চার নম্বরে রেখেছে।
৫. লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি / আর্জেন্টিনা)
৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে জাদুকরি পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন মেসি। টুর্নামেন্টে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে জিতেছেন সিলভার বল ও সিলভার বুট। তবে ইউরোপের বাইরে মেজর লিগ সাকারে (এমএলএস) খেলা এবং ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয় তার রেকর্ড নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথ কিছুটা কঠিন করে তুলেছে।