অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

একনজরে আর্জেন্টিনা-স্পেনের আগের ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্স-পরিসংখ্যান

ছবি: সংগৃহীত



 আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে ফাইনাল মহারণে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। নতুন চ্যাম্পিয়নকে বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই আজ পর্দা নামবে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচ। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগে দুই দলের শক্তি-সামর্থ্যের আভাসও দেখা যাক। 

চলতি বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠার আগ পর্যন্ত দুই দলের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে- আক্রমণ, পাসিং, রক্ষণ কিংবা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আলাদা আলাদা আধিপত্য। একদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে বল দখল ও রক্ষণে প্রায় নিখুঁত স্পেন। চলুন, দেখে নেওয়া যাক টুর্নামেন্টজুড়ে দুই দলের পরিসংখ্যান কী বলছে।


আক্রমণভাগ ও গোলের পরিসংখ্যান:


টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচ খেলে আর্জেন্টিনা মোট ১৯টি গোল করেছে, যেখানে তাদের প্রত্যাশিত গোল ছিল ১৫ দশমিক ৩৮। পুরো আসরে তারা মোট ১১৩টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে ৪৬টি ছিল লক্ষ্যে (অন-টার্গেট) এবং ৪৮টি লক্ষ্যের বাইরে। তাদের গোলে রূপান্তরের হার ছিল ১৭ শতাংশ। পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া শট ছিল ৬৫টি, আর বক্সের বাইরে থেকে ৪৮টি। এছাড়াও হেড থেকে শটের চেষ্টা করেছে ২২টি। দলটি মোট ১২টি অ্যাসিস্ট করেছে এবং ১টি গোল পেয়েছে পেনাল্টি থেকে।

পাসিং ও প্লে-মেকিং:


পাসিংয়ে আর্জেন্টিনার দারুণ আধিপত্য ছিল। তারা মোট ৪,৭৭২টি পাস দেওয়ার চেষ্টা করে, যার মধ্যে সফল হয় ৪,৩২৪টি। ফলে তাদের পাসিং নির্ভুলতার হার দাঁড়ায় ৯১ শতাংশ। পাশাপাশি ১০২টি ক্রসের মধ্যে ৩৪টি সফল হয়েছে, যা ৩৩ শতাংশ সফলতার সমান। দলটি টুর্নামেন্টে ৩৭টি কর্নার এবং ৮৯টি ফ্রি কিক আদায় করেছে।

রক্ষণভাগ:

রক্ষণভাগে আর্জেন্টিনা ৭ ম্যাচে মোট ৭টি গোল হজম করেছে এবং ২টি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে। পুরো টুর্নামেন্টে তারা প্রতিপক্ষের ওপর ১,৬০৯ বার প্রেসিং করেছে এবং ২৯৭ বার ফোরসড টার্নওভারের মাধ্যমে বলের দখল পুনরুদ্ধার করেছে। শৃঙ্খলার দিক থেকে দলটি কোনো লাল কার্ড দেখেনি, তবে ৯টি হলুদ কার্ড পেয়েছে।


খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স:

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন লিওনেল মেসি। পাশাপাশি তিনি সর্বোচ্চ ৩৪টি শট নিয়েছেন, ৪১টি ক্রস করেছেন এবং ১৫৪ বার লাইন ব্রেক করার চেষ্টা করেছেন। এনজো ফার্নান্দেজ ১২২টি সফল লাইন ব্রেক এবং সর্বোচ্চ ২৯৪টি স্প্রিন্ট করে মিডফিল্ডে নিজের আধিপত্য দেখিয়েছেন।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫২১টি পাস দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। পুরো টুর্নামেন্টে ২১৫ বার প্রতিপক্ষকে প্রেস করেছেন হুলিয়ান আলভারেজ। পাশাপাশি ঘণ্টায় গড়ে ৬ দশমিক ২২ কিলোমিটার গতিতে চলাফেরা করে আক্রমণভাগে নিরলস পরিশ্রমের প্রমাণ দিয়েছেন। এছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে ৭৫ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দৌড়ে নিজের অসাধারণ ফিটনেস ও স্ট্যামিনার প্রমাণ দিয়েছেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।


আক্রমণভাগ ও গোলের পরিসংখ্যান:

টুর্নামেন্টে স্পেন মোট ১৩টি গোল করেছে, যার মধ্যে ১২টিই এসেছে পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে। পুরো আসরে তারা মোট ১২০টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে ৪২টি ছিল লক্ষ্যে (অন-টার্গেট) এবং ৫৩টি লক্ষ্যের বাইরে। তাদের গোলে রূপান্তরের হার ছিল ১১ শতাংশ। পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া শট ছিল ৭১টি, আর বক্সের বাইরে থেকে ৪৯টি। এছাড়া হেড থেকে শটের চেষ্টা করেছে ১৭টি। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন ২০টি বড় গোলের সুযোগ তৈরি করে, যার মধ্যে ৯টি কাজে লাগাতে পারেনি। দলটি মোট ৯টি অ্যাসিস্টও করেছে।


পাসিং ও প্লে-মেকিং:

বল দখল ও পাসিংয়ে ছিল স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্য। সাত ম্যাচে তাদের গড় বল দখলের হার ছিল ৬৩.৭ শতাংশ। দলটি মোট ৪,৫৯২টি পাস দেওয়ার চেষ্টা করে, যার মধ্যে সফল হয় ৪,১৫৬টি। ফলে তাদের পাসিং নির্ভুলতার হার দাঁড়ায় ৯১ শতাংশ। পাশাপাশি ১৫৪টি ক্রস থেকে ২১ শতাংশ সফলতা পেয়েছে এবং আদায় করেছে ৪৫টি কর্নার।

রক্ষণভাগ:

ফাইনালে ওঠার আগ পর্যন্ত সাত ম্যাচে স্পেন মাত্র ১টি গোল হজম করেছে। ছয়টি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখে তারা বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে। প্রতিপক্ষ দলগুলো স্পেনের বিপক্ষে মোট ৪৪টি শট নিতে পেরেছে, যার মধ্যে মাত্র ১০টি ছিল লক্ষ্যে। গোলরক্ষক উনাই সিমন ৯৩ শতাংশ সেভ রেট ধরে রেখে টানা ৬৫০ মিনিট কোনো গোল হজম করেননি। এছাড়া দলটি টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যৌথ রেকর্ড স্পর্শ করেছে।

খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স:


টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৬৪৮টি সফল পাস দিয়ে বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বাধিক সফল পাসের রেকর্ড গড়েছেন রদ্রি। ৫৪৭টি সফল পাস দিয়ে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন পাউ কুবারসি। আর ৫৩৩টি সফল পাস করে পেছন থেকে আক্রমণ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন আইমেরিক লাপোর্তে। এখন পর্যন্ত দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫টি গোল করে স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিকেল ওইয়ারসাবাল। পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৩০টি সফল ড্রিবল সম্পন্ন করে আক্রমণভাগে নিজের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন লামিন ইয়ামাল। এছাড়াও ২টি করে অ্যাসিস্ট করে দলের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে আছে মার্ক কুকুরেল্লা ও দানি ওলমো।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। দুই দলেরই জয় সমান ৬টি করে, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে হারিয়েছিল স্পেনকে। ২০১০ সালের প্রীতি ম্যাচেও ৪-১ গোলের বড় জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা। তবে ২০১৮ সালের প্রীতি ম্যাচে ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্পেন। সেই ম্যাচে চোটের কারণে খেলতে পারেননি লিওনেল মেসি।

দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্পেন সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে, যা পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের যৌথ সর্বোচ্চ রেকর্ড। 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজার পরেই শুনলেন বাবাও বেঁচে নেই

1

‘ওদের আছে মেসি, আমাদের আছে সালাহ’

2

দুইবার চুরি হয়েছিল বিশ্বকাপ ট্রফি

3

মৃত্যুর গুজবে মুখ খুললেন তানিয়া বৃষ্টি

4

আমি এখন কার জন্য বাঁচব? মা ও তিন বোনকে হারিয়ে সিফাত

5

গরমে ডাবের পানির উপকারিতা বাড়াতে মেশান এই ৫ উপাদান

6

দুইয়ের বেশি সন্তান নিলেই মিলবে নগদ অর্থ

7

দুর্গম পাহাড় থেকে অসুস্থ বম নারীকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে উ

8

খেলাপি ঋণ কমার আড়ালে বাড়ছে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি

9

ফুটবলার ম্যারাডোনার মৃত্যুতে নতুন রহস্য

10

ইসরায়েলকে সমর্থনের কারণেই কি নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে হারল জার

11

পাকিস্তানে সেনা বহনকারী ট্রেনে আত্মঘাতী হামলা

12

স্পেসএক্সের আইপিওতে শেয়ার মূল্য ১৩৫ ডলার

13

বিশ্বকাপে আলোচনায় নেইমারের প্রেমিকা বিয়ানকার্দি

14

সরকার জনমুখী প্রশাসন চায়: প্রধানমন্ত্রী

15

ইউনিসেফ থেকে ৪১২ কোটি টাকার হামের টিকা কিনছে সরকার

16

ঠাকুরগাঁওয়ে ইত্যাদির শুটিংয়ে কী ঘটেছিল, জানালেন হানিফ সংকেত

17

এয়ার চায়নার ৪টি ফ্লাইট বাতিল

18

১৮২ রানে থামলো নিউজিল্যান্ড

19

হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করল দুটি ইরানি জাহাজ

20