অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাজ্যকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি আর্জেন্টিনার

ছবি: সংগৃহীত



ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে এবার সেখানে তেল উত্তোলনকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং দ্বীপপুঞ্জের আশপাশের তেল প্রকল্প বন্ধে নতুন আইন করার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে মিলেই বলেন, ফকল্যান্ডের কাছে তেল ও গ্যাস উত্তোলনে জড়িত কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হবে। আর্জেন্টিনা যে ভূখণ্ডকে নিজেদের বলে দাবি করে, কিন্তু বর্তমানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকা সেই এলাকায় আর্জেন্টিনার অনুমতি ছাড়া পরিচালিত প্রকল্পকে তিনি দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।

মিলেই জানান, আর্জেন্টিনার বিদ্যমান আইনের আওতায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে তিনি একটি ডিক্রি জারি করবেন। শুধু তেল প্রকল্পে সরাসরি যুক্ত কোম্পানি নয়, তাদের অংশীদার, পরিচালক ও সরবরাহকারীদেরও শাস্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি আর্জেন্টিনার কংগ্রেসে একটি জরুরি ‘ন্যাশনাল সার্বভৌমত্ব প্রতিরক্ষা’ বিল পাঠানোর কথা জানিয়েছেন মিলেই। প্রস্তাবিত আইনে ফকল্যান্ডের আশপাশে আর্জেন্টিনার অনুমতি ছাড়া পরিচালিত প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রাখা হবে।

মিলেইয়ের ঘোষণার কেন্দ্রে রয়েছে সি লায়ন তেল প্রকল্প। ফকল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় অববাহিকায় সমুদ্রের নিচে থাকা এই তেলক্ষেত্রটি পরিচালনা করছে যুক্তরাজ্যের রকহপার এক্সপ্লোরেশন ও ইসরায়েলের নাভিতাস পেট্রোলিয়াম। প্রতিষ্ঠান দুটির আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রকল্পটির উন্নয়নকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সি লায়ন তেলক্ষেত্রে আনুমানিক ১.৭ বিলিয়ন বা ১৭০ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে। এটি ফকল্যান্ডের উপকূল থেকে প্রায় ১৩০ মাইল দূরে। তুলনা হিসেবে, উত্তর সাগরে শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিমে অবস্থিত রোজব্যাংক তেলক্ষেত্রে আনুমানিক ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে।

মিলেই বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সি লায়ন প্রকল্পে তেল উন্নয়ন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আর্জেন্টিনার স্বার্থের জন্য জরুরি হুমকি তৈরি করেছে। তার ভাষ্য, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ফকল্যান্ডের আশপাশের সমুদ্র থেকে আর্জেন্টিনার তেল উত্তোলনের বাস্তব সক্ষমতা তৈরি হয়ে যাবে।

ফকল্যান্ডকে আর্জেন্টিনায় ‘লাস মালভিনাস’ নামে উল্লেখ করা হয়। দ্বীপপুঞ্জটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের বিরোধ বহু পুরোনো। ১৮৩৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্য দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। ১৯৮২ সালে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধও হয়েছিল। ওই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সামরিক সদস্য, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সামরিক সদস্য এবং তিনজন দ্বীপবাসী নিহত হন।

যুক্তরাজ্য অবশ্য ফকল্যান্ডের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, দ্বীপবাসীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে ও তারা যত দিন ব্রিটিশ ভূখণ্ড হিসেবে থাকতে চায়, তত দিন ফকল্যান্ড ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি থাকবে।

২০১৩ সালে ফকল্যান্ডের বাসিন্দারা গণভোটে ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে থাকার পক্ষে বিপুল ভোট দেন। ওই ভোটে ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার ব্রিটিশ ভূখণ্ড হিসেবে থাকার পক্ষে ছিলেন।

তবে মিলেইয়ের সাম্প্রতিক অবস্থান আগের তুলনায় আরও কঠোর। এর আগে তিনি ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছিলেন। এবার তেল প্রকল্পকে সামনে রেখে কোম্পানি, তাদের অংশীদার ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নিয়েছেন।

মিলেই একই ভাষণে আর্জেন্টিনার দক্ষিণাঞ্চলীয় তিয়েরা দেল ফুয়েগো প্রদেশে একটি নৌঘাঁটি নির্মাণে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন। পাশাপাশি ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ও টেলিযোগাযোগ সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ফকল্যান্ড ইস্যুতে মিলেইয়ের নতুন অবস্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেছেন, ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবস্থান পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফকল্যান্ড নিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যকে সহায়তা করবে কি না- এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা না করার অভিযোগ তোলেন।

মিলেই তার ভাষণে দাবি করেন, ফকল্যান্ড প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা আর্জেন্টিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিশ্বে এমন কিছু পরিবর্তনের ‘হাওয়া’ বইছে, যা আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে যাচ্ছে।

ফকল্যান্ড ইস্যুতে মিলেইয়ের এই কঠোর অবস্থানের একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। আগামী বছর আর্জেন্টিনায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা।

আর্জেন্টিনাতে দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের দাবি জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে তেল উত্তোলনের মতো একটি বাস্তব ও অর্থনৈতিক বিষয় কেন্দ্র করে মিলেইয়ের এই অবস্থান তাকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখতেও সহায়তা করতে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

সূত্র: রয়টার্স

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্রাজিল-নরওয়ে মহারণ আজ বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়

1

১১ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পরিবর্তন করলো সরকার

2

দক্ষতা উন্নয়নে নজর কম, ফ্রিল্যান্সার তৈরির হিড়িক

3

ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি: মির্জা ফখরুল

4

১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল, বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন

5

ব্রাজিলের ভারত সফর ‘অভাবী পরিবারে ছেলের বিয়েতে শাহরুখকে নাচা

6

আরেকটি মাইলফলক স্পর্শের অপেক্ষায় মেসি

7

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনায় চীন ও রাশিয়া

8

গোল্ডেন বুট দৌড়ে তীব্র লড়াই: মেসি-এমবাপে-হলান্ড কারা এগিয়

9

অনলাইনে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার উপায়

10

এমবাপে নিশ্চিত, ফাইনালেও গোল করবেন মেসি

11

সদরঘাট লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পেল সহায়তা

12

স্পেসএক্সের আইপিওতে শেয়ার মূল্য ১৩৫ ডলার

13

মেঘনায় ঝড়ের কবলে ট্রলারডুবি নিখোঁজ ৩

14

২০২৬ বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েছেন প্যারাগুয়ের মাতিয়

15

ফ্রিজ ভালো রাখার উপায়

16

ঈদযাত্রায় রাজধানী ছাড়ছেন পোশাক শ্রমিকরা

17

এবার এমবাপ্পেকে সিনেটরের হুমকি, ‘তোমার কোনো ধারণাই নেই আমি ক

18

‘আমি মিথ্যা বলব না, এখনও কষ্ট হচ্ছে’, বিশ্বকাপের পর এমবাপ্পে

19

অফসাইড বিতর্ক কমাতে নতুন প্রযুক্তির যুগে ফিফা

20