ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গ্রিন কার্ড আবেদন নীতি বদলালো যুক্তরাষ্ট্র

সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, এখন থেকে বেশিরভাগ অভিবাসীকে গ্রিন কার্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থিত দূতাবাস বা কনস্যুলারের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এই সিদ্ধান্তকে দেশটির অভিবাসন নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) জানিয়েছে, যারা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেতে চান, তাদেরকে ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া’ নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই অনেক ভিসাধারী এই আবেদন করতে পারতেন, যা এখন সীমিত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নতুন ব্যবস্থা অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, নিজ দেশে থেকে আবেদন করলে যাচাই-বাছাই সহজ হয় এবং অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমে।

অন্যদিকে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিয়মের ফলে বহু পরিবার আলাদা হয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলমান আবেদন প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা বাড়বে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালীন দেশে ফিরে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় প্রবেশ কঠিন হয়ে যেতে পারে।

USCIS আরও জানিয়েছে, শিক্ষার্থী, অস্থায়ী কর্মী ও পর্যটক ভিসাধারীদের এখন থেকে স্টেট ডিপার্টমেন্টের কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আবেদন করতে হবে। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন জাতীয় স্বার্থ বা মানবিক কারণে, ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

সংস্থাটির মুখপাত্র জ্যাক কালার বলেন, নতুন নীতির লক্ষ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের মূল কাঠামোর মধ্যে ফিরিয়ে আনা এবং অপব্যবহার বন্ধ করা। তিনি আরও জানান, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অভিবাসন সংক্রান্ত সম্পদ আরও গুরুত্বপূর্ণ কেস যেমন মানবপাচার ও সহিংস অপরাধ সম্পর্কিত মামলায় ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত প্রতিবছর লাখো আবেদনকারীর পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলবে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ গ্রিন কার্ড স্ট্যাটাস পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে। নতুন নীতি তাদের ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় বিভিন্ন দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল, যা অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাফুফে সভাপতি

1

নির্বাচনী ঝুঁকিতে নেতানিয়াহু

2

ইরানের পক্ষে যুদ্ধে না জড়ানোয় এরদোয়ানের প্রশংসা ট্রাম্পের

3

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন

4

পাকিস্তানের পারমাণবিক কেন্দ্রে ড্রোনের আঘাত, ‘অনিচ্ছাকৃত’ বল

5

ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে চীনের সহায়তা প্রয়োজন নেই : ট্রাম্প

6

৫৬ বছরে অগ্রগতি হয়নি: মির্জা ফখরুল

7

আর্জেন্টিনা ভক্তদের জন্য নতুন গান আমরা আর্জেন্টিনা ভালোবাসি

8

‘আমি ভয়ও পাচ্ছি, কারণ ইসরায়েলিদের বিশ্বাস করি না’

9

বাড়তে পারে অ্যাপলের পণ্যের দাম, ইঙ্গিত টিম কুকের

10

রাশিয়ায় বাড়ছে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রসার

11

প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করে মেসির ব

12

দেশে খাদ্যশস্যের মজুত ২০ লাখ টন ছাড়াল

13

যে কারণে হরমুজের একক নিয়ন্ত্রণ চায় ইরান

14

কাঁধে বই, হাতে বাদামের ঝোলা, ছোট্ট মাহিমের ওপর পুরো সংসার

15

হরমুজ প্রণালীতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত

16

লিবিয়ায় নৌকা থেকে ৪০৪ অভিবাসী উদ্ধার

17

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন চিপ উন্মোচন করল এনভিডিয়া

18

মাথা নত করে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন জাপান কোচ

19

নকইউটে আর্জেন্টিনার বিদায়, ওঝার ভবিষ্যদ্বাণী কী সত্যি হবে?

20