অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

স্পেনে দাবানলের ক্ষত কাটছে না, চিন্তায় হাজারো মানুষ

ছবি: সংগৃহীত



ভয়াবহ দাবানলে ঘরছাড়ার পর অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন স্পেনের হাজারো মানুষ। মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে এলেও কবে বাড়ি ফিরতে পারবেন, তা জানেন না অনেকেই। একই সঙ্গে আগুনে পুড়ে যাওয়া বিস্তীর্ণ এলাকা এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় ঠেকানোর উপায় নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। খবর এএফপির।

মাদ্রিদের উপকণ্ঠের চাপিনেরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী এলভিরা মেনেন্দেজ বলেন, নিজের বাড়ি ছেড়ে পৌরসভার একটি জিমনেশিয়ামে রাত কাটাতে হয়েছে। সেখানে মানুষ ও পোষা প্রাণীর ভিড়ে ঠিকমতো ঘুমানোও সম্ভব হয়নি। তবে স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের কম্বল, খাবার ও গোসলের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

মেনেন্দেজ বলেন, জীবনে এত ভয়াবহ পরিস্থিতি আগে দেখিনি। আগুন যখন গ্রামের দিকে এগিয়ে আসছিল, তখন আমার মনে হয়েছিল আমি হয়তো আর বাঁচব না।

মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলের দাবানলে এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। মাদ্রিদ অঞ্চল ও আভিলা প্রদেশ থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্পেনে দাবানলের ক্ষত কাটছে না, চিন্তায় হাজারো মানুষ
ছড়িয়ে পড়ছে ফ্রান্স-স্পেনের দাবানল, ঘর ছেড়েছে ৩ লাখের বেশি মানুষ
চাপিনেরিয়ার আরেক বাসিন্দা ভিক্টোরিয়া হুরতাদো জানান, তিনি যে বৃদ্ধ ব্যক্তির দেখাশোনা করেন, তাকে নিয়ে তড়িঘড়ি করে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। সঙ্গে নেওয়া গেছে শুধু একটি ছোট ব্যাগ, যাতে ছিল কিছু কাপড় ও প্রয়োজনীয় ওষুধ। তিনি বলেন, কবে বাড়ি ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও দমকলকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছেন।

কাছের ব্রুনেট শহরের মেয়র মার নিকোলাস বলেন, আগুন সব সীমা অতিক্রম করেছে। প্রায় ১০০ বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। মানুষের জীবন রক্ষা ছিল সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার, তবে এই দাবানলে যে ব্যাপক পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে, সেটিও গভীর উদ্বেগের বিষয়।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা আন্তোনিও-লুইস রদ্রিগেস মনে করেন, ঝোপঝাড় পরিষ্কার ও বনাঞ্চলের রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলাই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। তার ভাষ্য, শীতকালে বেশি বৃষ্টির কারণে প্রচুর ঘাস ও ঝোপঝাড় জন্মেছে, যা গরমে শুকিয়ে গিয়ে সহজেই আগুনে পুড়েছে।

রদ্রিগেসের মতে, পরিত্যক্ত খামার ও অনাবাদি জমির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তিনি বলেন, পাহাড়ি এলাকায় আরও বেশি ভেড়া ও ছাগল চরানো হলে সেগুলো অতিরিক্ত ঘাস ও ঝোপঝাড় খেয়ে ফেলবে, যা ভবিষ্যতে দাবানলের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১২ দিনেই বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য দেড় কোটি আবেদন, যেভাবে করবে

1

জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেন মেসি

2

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার ডিজেল পাঠাচ্ছে রাশিয়া

3

মেট্রোরেলের চলাচলের সময় বাড়ল, রোববার থেকে নতুন সূচি

4

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিমান বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

5

প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

6

সরকারি ডিসি কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ৫.০৭ মেগাওয়াট

7

যার অনুরোধে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ‘চুক্তিতে’ সই করলেন স্কালো

8

কম বয়সে চুল পাকা, বংশগত কারণ নাকি ভিটামিনের ঘাটতি?

9

কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন, বহু হতাহতের আশঙ্কা

10

‘মেসিকে বিশ্লেষণ করতে গেলে আপনার ভাষা ফুরিয়ে যাবে’

11

মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি

12

৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিলের পরিকল্পনা, তরুণদের এগিয়ে আস

13

মার্কিন যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন রুট এখন ইরানের হাতে

14

ইন্টারনেট ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ আসছে যে দারুণ সুবিধা

15

আগস্টে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা ইসির

16

ফ্রান্সে এআই খাতে ৮৭.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে সফটব্যাংক

17

বিদ্যুৎ বিল কমানোর সহজ ৪ কৌশল

18

টিকটক দেখেই ভ্রমণের গন্তব্য ঠিক করছে জেন-জিরা

19

নানির দেশের আদরে মুগ্ধ রোনান সুলিভানরা

20