অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

যেভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ নিতে পারে ইরান

ছবি: সংগৃহীত



যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। এ অবস্থায় ইরানকে নিজেদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলায় ইরান সম্ভাব্য কয়েকটি পথে পাল্টা পদক্ষেপ এক বিশেষ প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

অর্থনৈতিক যুদ্ধ চললে হরমুজ প্রণালি কিংবা পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো পথ দিয়ে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ডস প্রধান (আইআরজিসি) ও দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই।

 কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে ইরানি হামলা ও হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা দ্রুতগতির নৌযান দিয়ে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। গত ছয় মাসে এমন হামলা ও হুমকির কারণে বারবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

এদিকে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। সৌদি আরবের জাহাজ চলাচল অবরোধের হুমকিও দিয়েছে তারা।

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি বাব আল-মান্দাবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এশিয়ামুখী তেল সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করে ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার চেষ্টা করলে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভূমিকম্পের মতো’ জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান
 
যুদ্ধ চলাকালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান যদি তেল ও গ্যাস উৎপাদন স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা পানি বিশুদ্ধকরণ কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করে, তাহলে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। 

 বিশেষ করে পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এটি বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের প্রধান ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার বাইরে থাকলেও সাইবার হামলা বা অন্যান্য পরোক্ষ উপায়ে চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার জন্য ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের দায়ী করেছে, যদিও তেহরান এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এ ছাড়া পশ্চিমা নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইরানের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজনকে ব্যবহার করে পশ্চিমা দেশগুলোতে হামলা বা হত্যাচেষ্টার অভিযোগও করেছে। তবে ইরান এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

 সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে ইরান সরাসরি সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি সরবরাহ, উপসাগরীয় অবকাঠামো ও সাইবার ক্ষেত্রকে পাল্টা চাপ সৃষ্টির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার বুক ফেটে যাচ্ছে, ভীষণ কষ্ট হচ্ছে: মেসি

1

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় প্যারামেডিক নিহত

2

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

3

বিশ্বকাপে প্রথম মা-ছেলে জুটি

4

ইরানকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জার্মান চ্যান্সেলরের

5

ভিনির জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে নকআউটে ব্রাজিল

6

মায়ের সঙ্গে আবেগঘন পুনর্মিলনে কাঁদলেন ভোজিনিয়া

7

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়ল

8

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন সংগীতশিল্পী দিলরু

9

আসিফ নজরুলের হস্তক্ষেপে সিমিনের রেহাই

10

লেবানন-ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি আলোচনা মঙ্গলবার

11

অস্ট্রেলিয়ার পর ইংল্যান্ডকেও কাঁপালেন আরাফাত, কে পাকিস্তানের

12

রাজধানীর হাতিরঝিলে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা পলাশ’ গুলিবিদ্ধ

13

ঢাকার ১১ ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ বাধ্যতামূলক

14

নতুন সরকারের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

15

তুমি অসাধারণ, তোমাকে নিয়ে গর্ব করা উচিত: ভোজিনিয়াকে মেসি

16

প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করে মেসির ব

17

২০ বছর অপেক্ষার পর পাকিস্তানি দম্পতির স্বপ্ন পূরণ

18

ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি ট্রাম্পের

19

পাকিস্তানি আমলাদের নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

20