ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে নতুন করে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর ১ নভেম্বরের মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি আগামী ছয় ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
এরপর এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করতে পারে। পরে ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের নতুন এই শঙ্কা দেখা দিয়েছে এমন এক সময়ে, যখন কয়েক দিন আগেই অর্ণবের প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা।
গত ২৮ অক্টোবর ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপটনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ওই সময় বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও প্রতিবেশী ওড়িশায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। উপড়ে পড়ে অসংখ্য গাছ, প্লাবিত হয় ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। মাছ ধরার কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পাশাপাশি পরিবহন ও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
এবার নতুন নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আবারও দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তবে এর গতিপথ ও শক্তি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখতে হবে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
মন্তব্য করুন