বিগত সরকারের সময়ে দেশের অর্থনীতি দুর্বল অবস্থায় রেখে যাওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এই ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অন্তত আরও দুই বছর সময় প্রয়োজন হবে।
শনিবার (চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে) বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের চাপ মোকাবিলা করতে হয়েছে, যার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়েছে।
মন্ত্রী জানান, শুধু জ্বালানি খাতেই আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাত ও বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধে দুই মাসে আরও প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
তিনি বলেন, “সব মিলিয়ে জাতীয় অর্থনীতি এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে।”
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দরিদ্র জনগণ বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে চিকিৎসা সেবা পেতে পারে।
চট্টগ্রামে একটি মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অতীত সরকারের সময়ে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের বড় অংশ অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকার বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে মনিটরিং জোরদার করবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানহানি হয়েছে। ভবিষ্যতে যোগ্যতা ছাড়া ভর্তি বা নিয়োগ দেওয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
স্বাস্থ্যখাতে কাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট সংকট দূর করতে নতুন ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার’ বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার ব্যয় সরকার বহন করবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়, তাই মেডিক্যাল শিক্ষায় ডিজিটাল সুবিধা ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।