ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের সমাপ্তি

প্রতীকী ছবি

পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad-এ কয়েক দিন ধরে চলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে এই বৈঠক নিয়ে বড় ধরনের আশা তৈরি হলেও, শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থতায় পরিণত হয়। আলোচনার সমাপ্তির পর শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা ব্যানার ও বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলার দৃশ্য যেন এই ব্যর্থতারই প্রতীক হয়ে ওঠে।

ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা Mohammad Bagher Ghalibaf আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের আস্থা অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ইরান আলোচনায় গঠনমূলক প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র একতরফা শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যা ইরানের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে বিভিন্ন চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার ইতিহাসই মূলত এই আলোচনায় গভীর অবিশ্বাস তৈরি করেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট J. D. Vance দাবি করেন, তারা আন্তরিকভাবে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল এবং একটি সম্মানজনক সমাধানের চেষ্টা করেছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের “চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব” দিয়েছিল, কিন্তু ইরান তা গ্রহণ করেনি। ফলে ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো—পরবর্তী সিদ্ধান্ত এখন তেহরানের ওপর নির্ভর করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের “চূড়ান্ত প্রস্তাব” কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ সীমিত করে দিতে পারে, যার ফলে ভবিষ্যতে সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এটি কেবল একটি বৈঠকের ব্যর্থতা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সংকটের ইঙ্গিতও বহন করছে।

এই আলোচনার ব্যর্থতার প্রভাব ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে দেখা যাচ্ছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে Bint Jbeil এলাকায় হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে পুরো অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রশাসনের সামনে এখন মূলত দুইটি পথ খোলা আছে। প্রথমত, ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে সংঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি করা, আর দ্বিতীয়ত, নতুন কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আবারও পর্দার আড়ালে আলোচনা শুরু করা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পথই অত্যন্ত জটিল।

ইরানের অভ্যন্তরেও এই ব্যর্থতা গভীর হতাশা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সংকটের কারণে জনগণ আশা করেছিল একটি চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু আলোচনার ব্যর্থতা সেই প্রত্যাশাকে আবারও ভেঙে দিয়েছে।

সবশেষে বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সংকটের মূল কারণ হলো দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস। যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে অনিচ্ছুক, আর ইরান চায় পূর্ণ গ্যারান্টি। এই দূরত্ব যতক্ষণ না কমবে, ততক্ষণ কূটনৈতিক সমাধান কঠিনই থাকবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমি শিবের ভক্ত, বিষ গিলে নেব: মোদি

1

ইরানের যুদ্ধ ক্ষয়ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার

2

স্লো ওভার রেটের কারণে ঋতুরাজের জরিমানা

3

উৎসবের আমেজে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

4

'ইরানের হামলায়' নিহত নারী যোদ্ধা কনিষ্ঠ কুর্দি

5

ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি ট্রাম্পের

6

নাম সরাতে কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল: সাক্ষাৎকারে সাকিব

7

মা হতে চলেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর অনামিকা ঐশী

8

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২

9

বিশ্বে ইরানের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে : আব্বাস আরাগচি

10

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনা

11

চুক্তি না মানলে আরো ভয়াবহ হামলা শুরু হবে : ট্রাম্প

12

সোনালি মুরগির দাম হু হু করে বাড়ছে কেন?

13

অতিরিক্ত হাসিল ও ভিড় এড়াতে খামারমুখী কুমিল্লার ক্রেতারা

14

সৃষ্টি নয়, স্রষ্টাই একমাত্র উপাস্য

15

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও দূরে

16

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হলো অভিনেত্রী কারিনা কায

17

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ন্যাটো মিত্রদের বৈঠক

18

বাসের ভাড়া কত বাড়বে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ

19

মতুয়াদের নাগরিকত্ব ইস্যুতে মোদির প্রতিশ্রুতি

20