ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। এই মাসের ১০ তারিখ ‘আশুরা’ নামে পরিচিত, যা ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। সহিহ হাদিসে এসেছে, আশুরার রোজা রাখলে পূর্ববর্তী এক বছরের ছোট গুনাহ মাফ হয়ে যায় (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)।
তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে—রমজানের ফরজ রোজা যদি কাজা থাকে, তাহলে কি আশুরার নফল রোজা রাখা যাবে?
অধিকাংশ ইসলামি আলেমের মতে, রমজানের কাজা রোজা বাকি থাকলেও আশুরার রোজা রাখা বৈধ। কারণ কোরআনে কাজা রোজা আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি; বরং পরবর্তী রমজান আসার আগ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে (সুরা বাকারা: ১৮৫)।
এ থেকে বোঝা যায়, কাজা রোজা পরে আদায় করা গেলেও ফজিলতপূর্ণ নফল রোজা যেমন আশুরা বা আরাফার রোজা পালন করা জায়েজ।
ফকিহদের মতে, যদিও নফল রোজা রাখা বৈধ, তবুও ফরজ ইবাদত আগে আদায় করা উত্তম। তাই সুযোগ থাকলে দ্রুত রমজানের কাজা রোজা পূর্ণ করা উচিত।
সমসাময়িক আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ (রহ.) বলেছেন, কেউ যদি আশুরা বা আরাফার দিনে রোজা রাখে এবং তার ওপর কাজা রোজা বাকি থাকে, তবে তার রোজা সহিহ হবে।
আশুরার রোজার অন্যতম বড় ফজিলত হলো, এটি পূর্ববর্তী এক বছরের ছোট গুনাহ মাফের কারণ হয়। তবে কবিরা গুনাহ থেকে তওবা করা অপরিহার্য।
নবী (সা.) বলেছেন, “আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করবে” (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)।
মন্তব্য করুন