ইরানে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সম্ভাব্য ক্ষমতার পালাবদলকে ঘিরে নতুন একটি গোপন পরিকল্পনার দাবি সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়ে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ–কে সামনে এনে নতুন ক্ষমতার কাঠামো গড়ার চিন্তা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুদ্ধের শুরুর দিকেই তেহরানের বর্তমান নেতৃত্বকে অচল করে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের ক্ষমতা যদি দেশের ভেতরের কেউ গ্রহণ করত, তবে সেটিই সবচেয়ে কার্যকর হতো।
সূত্রগুলোর মতে, ওই সম্ভাব্য পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিলেন আহমাদিনেজাদ। একসময় কট্টর পশ্চিমাবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ইরানের বর্তমান ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। এই রাজনৈতিক পার্থক্যই তাকে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচনার কারণ হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম দিনেই তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাসভবনের আশপাশে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনি আহত হয়েছেন বলে কিছু সূত্র দাবি করলেও পরে তার অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
কিছু সূত্রের দাবি, পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে আগেই আভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় পুরো পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন, নেতৃত্ব সংকট এবং আন্তর্জাতিক চাপ—সব মিলিয়ে এমন পরিকল্পনার আলোচনা সামনে এসেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন