ইরানে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে সিঙ্গাপুর সফরে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। পরিশোধিত জ্বালানির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী দেশ সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে কোনো স্বস্তি নেই। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যার প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন অনেক দেশের জন্য অগ্রাধিকার ইস্যু হয়ে উঠেছে।
অস্ট্রেলিয়া তাদের পরিশোধিত জ্বালানির প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির প্রায় ৩ শতাংশ পেট্রোল পাম্পে ডিজেল শেষ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপের ইঙ্গিত দেয়। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন জানিয়েছেন, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় মাত্র ৩৯ দিনের জ্বালানি মজুদ রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
সিঙ্গাপুর সফরের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার দেশটির নেতা লরেন্স ওংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে জ্বালানি সরবরাহ, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈঠকের আগে তিনি সিঙ্গাপুরের জুরং দ্বীপ পরিদর্শন করবেন, যা দেশটির প্রধান জ্বালানি ও রাসায়নিক শিল্প কেন্দ্র এবং যেখানে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধনাগারগুলো অবস্থিত।
সিঙ্গাপুর অস্ট্রেলিয়ার মোট পরিশোধিত জ্বালানির এক চতুর্থাংশেরও বেশি সরবরাহ করে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া সিঙ্গাপুরের দ্বিতীয় বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী দেশ। ফলে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে পারস্পরিক নির্ভরতা বিদ্যমান।
সিঙ্গাপুরে পৌঁছে অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, উভয় দেশের জন্যই নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক সংকটের সময় একে অপরের ওপর নির্ভর করতে পারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বিশ্বজুড়ে অগ্রাধিকার পেয়েছে এবং এই পরিস্থিতিতে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
মন্তব্য করুন