ভারতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক চিত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। সোমবার (৪ মে) রাত পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন দল সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২১২টিতে এগিয়ে থেকে তারা সরকার গঠনের পথে রয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ৭৫টি আসনে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন, যা বিজেপি ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে।
আসাম রাজ্যেও শক্ত অবস্থানে রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)। ১২৬টি আসনের মধ্যে তারা ১০২টিতে এগিয়ে এবং ইতোমধ্যে ১০০টিতে জয় নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (আইএনসি) ও তার মিত্ররা ২১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬৪টি আসন।
দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে চমক দেখিয়েছে থালাপতি বিজয়-এর নেতৃত্বাধীন নতুন দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগম (টিভিকে)। ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৫টিতে এগিয়ে থেকে তারা সরকার গঠনের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দ্রাভিডা মুন্নেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) ও কংগ্রেস জোট ৭০টি আসনে এগিয়ে আছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন।
কেরালা রাজ্যে সরকার গঠনের পথে রয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। ১৪০টি আসনের মধ্যে তারা ১০১টিতে এগিয়ে রয়েছে এবং ১০০টিতে জয় পেয়েছে। বিপরীতে লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) ৩৫টি আসনে জয় পেয়েছে। এখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৭১টি আসন।
অন্যদিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি-তে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এনডিএ জোট। ৩০টি আসনের মধ্যে তারা ১৬টিতে জয় নিশ্চিত করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৬টি আসন, যা তারা ইতোমধ্যেই অর্জন করেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডিএমকে, কংগ্রেস ও তাদের মিত্ররা।
সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনের ফলাফল ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানকে সামনে নিয়ে এসেছে এবং আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন