চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাইওয়ানে সাবেক ও বর্তমানে কর্মরত ৯ সামরিক কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তাইওয়ান প্রসিকিউটর অফিস।
প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ এপ্রিল এই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করা, গোপন সামরিক তথ্য পাচার এবং বিদেশি শক্তির সঙ্গে অবৈধ যোগাযোগের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ান-কে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটির ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ সেই উত্তেজনাকে আরও গভীর করছে।
চিয়াওতোউ জেলা প্রসিকিউটর অফিস জানায়, অভিযুক্তদের মধ্যে নয়জনই সাবেক ও কর্মরত সেনা, নৌ, বিমান ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ভিডিও ধারণ এবং অর্থের বিনিময়ে গোপন সামরিক তথ্য সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে চীনের ‘শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি গোষ্ঠী’র সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং বিভিন্ন সময় ঘুষ গ্রহণ করতেন। এই অর্থ ব্যাংক ট্রান্সফার ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৭২,০০০ নিউ তাইওয়ান ডলার থেকে শুরু করে ১.৭ মিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার পর্যন্ত।
একজন বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে, যিনি মাসিক অর্থের বিনিময়ে একটি বিদেশি গোষ্ঠীকে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সেনা সদস্যদের ঘুষ দেওয়ার সুযোগ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা তাইওয়ানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা তুলে ধরছে। তদন্ত শেষ হলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন