ট্রান্সকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমিন রহমানকে শেয়ার জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অব্যাহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মামলার বাদী এবং তাঁর ছোট বোন শাযরেহ্ হক অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের কারণেই মামলাটি খারিজ করা হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমান মৃত্যুর পর পারিবারিক সম্পত্তি ও শেয়ার মালিকানা নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। শাযরেহ্ হক অভিযোগ করেন, কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরে জাল স্বাক্ষর এবং ভুয়া ডিড অব সেটলমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ট্রান্সকম গ্রুপের শেয়ার হস্তান্তরসংক্রান্ত এক বোর্ড মিটিংয়ে শাযরেহ্ হক ও তাঁর ভাইয়ের উপস্থিতি না থাকলেও তাঁদের স্বাক্ষর দেখানো হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রয়াত লতিফুর রহমানের অনুমোদনের স্বাক্ষর নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
তবে অভিযোগপত্র দাখিলের পর আদালত সিমিন রহমানসহ সব আসামিকে অব্যাহতি দেন। এর পরই মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
বাদী শাযরেহ্ হক দাবি করেন, তাঁদের বক্তব্য শোনার আগেই মামলাটি খারিজ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে মামলার গতিপথ বদলে গেছে।” তিনি জানান, এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে মামলাটি ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। কিছু মহল থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি মামলার বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একই ঘটনায় দেশের শীর্ষ সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির নামও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মামলা প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দুদক ইতোমধ্যে একজন অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আইনজীবীরা বলছেন, পারিবারিক ব্যবসা, সম্পত্তি ও করপোরেট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের মামলাগুলোতে স্বচ্ছ তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় বিচারব্যবস্থার ওপর জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মন্তব্য করুন