রাশেদ খান দাবি করেছেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আবারও ‘গুপ্ত রাজনীতি’র পথে হাঁটতে চাচ্ছে। তার মতে, প্রকাশ্যে রাজনীতি করেও সংগঠনটির নেতাকর্মীরা কোনো বড় সমস্যার মুখোমুখি হননি, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে আড়ালে থাকার মধ্যেই তারা বেশি সুবিধা দেখছে।
রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে রাশেদ খান বলেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ছাত্ররাজনীতিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এখন আর শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক মিছিল-মিটিংয়ে নেওয়া বা গণরুম-গেস্টরুমকেন্দ্রিক নির্যাতনের মতো অভিযোগ আগের মতো দেখা যাচ্ছে না।
তিনি উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রশিবির ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির ধারণা ছিল যে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তারা হয়তো প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে না।
রাশেদ খান আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ছাত্রশিবিরের অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে আত্মপ্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টি বিভিন্ন মহলে ইতিবাচকভাবেও দেখা হয়েছে। তবে তার দাবি, সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে গোপনে অবস্থান করলে সংগঠনটি আরও বেশি সাংগঠনিক সুবিধা পায় বলে মনে করছে।
রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ–এর সাম্প্রতিক ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে কলেজ ক্যাম্পাসে আন্দোলন হয়েছে। তবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেককে নেকাব বা মাস্ক পরে থাকতে দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীরা প্রকাশ্যেই রাজপথে নেমেছিলেন এবং নিজেদের পরিচয় গোপন করেননি।
পোস্টে ইডেন কলেজসংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর রাস্তার দুই পাশে যুগলদের অবস্থানের বিষয়ও উল্লেখ করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিলে সাধারণ মানুষ তা ইতিবাচকভাবে নেবে।
সবশেষে তিনি মন্তব্য করেন, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার চেয়ে সমাজে বিদ্যমান অপসংস্কৃতি প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
মন্তব্য করুন