বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। আগামীকালও একই স্থানে ভোটগ্রহণ চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিরতি থাকবে।
এবারের নির্বাচনে সভাপতি, সম্পাদকসহ কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ১৪টি পদে ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১১ হাজার ৯৭ জন আইনজীবী। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের এই নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও জেলা আইনজীবী সমিতিগুলোতেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
যদিও সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দলীয়, বাস্তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শভিত্তিক প্যানেল নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল, জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল এবং এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল অংশ নিয়েছে। আওয়ামী লীগপন্থিদের সাদা প্যানেল এবার নির্বাচনে অংশ নেয়নি, যা এবারের নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী বলেছেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবীদের প্রতি ভোটারদের সমর্থন রয়েছে এবং সুষ্ঠু ভোট হলে তাদের পূর্ণ প্যানেলের জয় নিশ্চিত হবে বলে তারা আশাবাদী। তিনি দাবি করেন, দেশের অন্যান্য আইনজীবী সমিতির মতো সুপ্রিম কোর্ট বারেও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার অভিযোগ করেন, বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অতীতে ভোট কারচুপি ও জালভোটের ঘটনা ঘটেছে। তবে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকলে তাদের প্যানেল জয় পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এনসিপি সমর্থিত সম্পাদক প্রার্থী আজমল হোসেন বাচ্চু বলেন, ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে ভোট জালিয়াতি বা কারচুপির আশঙ্কাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন তারা।
বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সহসভাপতি, কোষাধ্যক্ষ, সহ সম্পাদক ও সদস্য পদেও পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে দলটি।
জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে আবদুল বাতেন এবং সম্পাদক পদে এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারাও সবগুলো পদে প্রার্থী দিয়েছে।
এদিকে এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল আংশিকভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তারা সম্পাদক, সহ সম্পাদক ও কয়েকটি সদস্য পদে প্রার্থী দিয়েছে।
এছাড়াও প্যানেলের বাইরে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সভাপতি, সম্পাদক ও সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে নির্বাচন উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট বারের এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন