জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকায় মো. সাগর হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার এ আদেশ দেন।
মমতাজ বেগমের পক্ষে জামিন শুনানিতে তার আইনজীবী রেজাউল করিম দাবি করেন, এজাহারে তার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য, নারী এবং দেশের প্রখ্যাত ফোক সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত বলেও উল্লেখ করেন আইনজীবী। তার দাবি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে অর্থায়ন বা পরিকল্পনার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তবে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকায় চলমান আন্দোলনে অংশ নেন মো. সাগর। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় আসামিরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করেন। এতে সাগর গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
ঘটনার পর নিহত সাগরের মা মোসা. বিউটি আক্তার তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করতে থাকেন। পরে একই দিন গভীর রাতে মিরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মরদেহ পাওয়া যায়। এরপর মরদেহ গ্রহণ করে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর বিউটি আক্তার বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৪৩ জনকে আসামি করা হয়। মমতাজ বেগমকে এ মামলার ৪৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মমতাজ বেগম রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার পর ২০১৪ ও ২০১৮ সালে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হন তিনি। তবে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকে তিনি আড়ালে চলে যান।
এরপর ২০২৫ সালের ১২ মে রাতে ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং সর্বশেষ আদালতের সিদ্ধান্তে তার জামিন আবেদনও নামঞ্জুর হলো।
মন্তব্য করুন