যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করছেন ব্যবসায়ীরা। বুধবার সকাল থেকেই নওয়াপাড়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে যশোর-খুলনা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্যবসায়ীরা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে, বাঁশ বেঁধে এবং চেয়ার বসিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। এতে দূরপাল্লার যানবাহনসহ স্থানীয় পরিবহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ যাত্রী, অফিসগামী মানুষ ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নওয়াপাড়া বাজারের প্রায় সব দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। রাজঘাট এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। শুধু সড়কপথ নয়, ভৈরব নদে নোঙর করা শতাধিক পণ্যবাহী কার্গো ও বার্জ থেকেও পণ্য ওঠানামার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
গত বুধবার সন্ধ্যায় নওয়াপাড়ার পীরবাড়ি মাদ্রাসার পাশে নিজ মালিকানাধীন মার্কেটের সামনে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত আড়াইটার দিকে মৃত্যু হয়।
নিহত আনিছুর রহমান নওয়াপাড়া বাজারের পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি সার, খাদ্যশস্য, কয়লা ও সিমেন্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে নওয়াপাড়ায় বসবাস করছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন বলেন, প্রধান আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অন্যদিকে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন