ইসরায়েল-লেবাননের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ছয় ঘণ্টা পর লেবাননের পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল দেখা যাচ্ছে। রাজধানী বৈরুত থেকে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যাওয়া মহাসড়কে যানবাহনের চাপ লক্ষ করা গেছে। অনেক মানুষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরই নিজ নিজ বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন এবং ধীরে ধীরে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।
তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে পর্যন্ত তীব্র সংঘর্ষ চলছিল, বিশেষ করে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে, যেখানে কিছু স্থানে উদযাপনের গুলিও চালানো হয়।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা চলতে থাকে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা মধ্যরাতের ১০ মিনিট আগে ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে সর্বশেষ হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার এক-দুই মিনিট আগ পর্যন্ত ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
যুদ্ধবিরতির পর থেকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে নতুন কোনো হামলার খবর না এলেও লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কিছু এলাকায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি গ্রামে গোলাবর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যদিও এগুলো প্রকৃত লঙ্ঘন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় ইসরায়েল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলার সুযোগ রাখতে পারে। তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে লেবাননের পক্ষ একমত নয়, বিশেষ করে দেশটির সেনাবাহিনী বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছে।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতিকে লেবাননের জন্য একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান-এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিও শিগগিরই সম্পন্ন হতে পারে।
বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে এই শান্তি কতটা স্থায়ী হবে।
মন্তব্য করুন