দেশের টিকাদান কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যসেবায় কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার সরকারি ভ্যাকসিন পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রধান লক্ষ্য শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনা।
টিকা ব্যবস্থাপনায় অতীতে কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “কে দোষ করেছে সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে।” তাঁর ভাষ্য, এই মুহূর্তে দোষ খোঁজার চেয়ে শিশুদের নিরাপত্তা ও টিকাদান কার্যক্রম সচল রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী জানান, হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে অনেক শিশুর নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হচ্ছে। গুরুতর অবস্থায় থাকা শিশুদের জন্য ভেন্টিলেশন সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া একজন বেসরকারি উদ্যোক্তার সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০টি নতুন ভেন্টিলেটর অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে, যা দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করা হবে। বর্তমানে দেশের হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ও আইসিইউ সেবা চালু রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভ্যাকসিন মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকারের হাতে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে। সম্প্রতি চীনের কোম্পানি Sinovac থেকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি পোলিও ও অ্যান্টির্যাবিস টিকাদান কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে জানান তিনি।
ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের সাময়িক ঘাটতির কথাও স্বীকার করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে আগামী জুনের মধ্যেই পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে যেসব শিশু এখনও টিকার আওতার বাইরে রয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে টিকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশ বর্তমানে একটি সংকটকাল অতিক্রম করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে টিকা ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা ঘাটতি ছিল কি না, তা কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্ত করা হবে।
মন্তব্য করুন