অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনা দলে ছিল অন্য আবেগ, জানালেন লাউতারো

মেসির বাড়ানো ক্রস থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই জয়সূচক গোল করেছিলেন লাউতারো। ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি দলের খেলোয়াড়দের কাছে কেবল ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং ১৯৮২ সালের যুদ্ধের স্মৃতি ম্যাচটিকে বাড়তি তাৎপর্য দিয়েছিল। সম্প্রতি সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজ।

লাউতারোর ভাষ্য, প্রকাশ্যে ম্যাচটিকে শুধু ফুটবল হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হলেও দলের ভেতরে আবেগ ছিল ভিন্ন। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট খেলোয়াড়দের মনে বিশেষ অনুভূতি তৈরি করেছিল।

গোল উৎসর্গ করেছিলেন ফকল্যান্ড যুদ্ধের সেনাদের

ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড জানান, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর করা গোলটি তিনি উৎসর্গ করেছিলেন ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধে অংশ নেওয়া আর্জেন্টাইন সেনাদের। এএফএ স্টুডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের গোলের আবেগীয় তাৎপর্য তুলে ধরেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে লাউতারোকে একটি ভিডিও দেখানো হয়। সেখানে তাঁর গোল উদ্‌যাপনের দৃশ্য দেখে ফকল্যান্ড যুদ্ধে অংশ নেওয়া এক সেনাকে কাঁদতে দেখা যায়। ভিডিওটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আর্জেন্টাইন এই তারকা।

লাউতারো বলেন, ওই সেনাদের প্রতি সম্মান জানাতেই তিনি গোলটি উৎসর্গ করেছেন। তাঁর মতে, যাঁরা দেশের জন্য লড়াই করেছেন, তাঁদের সঙ্গে জাতীয় দলের এই সাফল্যের সংযোগ তৈরি হওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, দল যে পুরস্কার, স্বীকৃতি ও প্রশংসা পাচ্ছে, তার পেছনে আগের প্রজন্মের ত্যাগ ও সংগ্রামের অনুপ্রেরণা রয়েছে। কীভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়, সেই শিক্ষা তাঁরা পেয়েছেন তাঁদের কাছ থেকেই।

দলের ভেতরে আবেগ ছিল অন্য রকম

ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে না জড়িয়ে ফুটবল হিসেবেই দেখতে চেয়েছিলেন। তবে লাউতারোর বক্তব্যে উঠে এসেছে, খেলোয়াড়দের কাছে ম্যাচটির আবেগীয় গুরুত্ব ছিল আলাদা।

লাউতারোর ভাষায়, ক্যামেরার সামনে তাঁদের ফুটবলকেন্দ্রিক অবস্থান বজায় রাখতে হয়েছিল। কিন্তু ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণে দলের ভেতরে ম্যাচটি অন্য সব ম্যাচের মতো ছিল না।

ফকল্যান্ড ইস্যু খেলোয়াড়দের বাড়তি প্রেরণা জুগিয়েছিল বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেই আবেগ দলকে ইতিবাচক শক্তি দিতে পারে।

ফকল্যান্ড যুদ্ধের ইতিহাস এখনো আলোচনায়

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনায় ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ৭৪ দিন ধরে যুদ্ধ চলে। ওই সংঘাতে ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। এ ছাড়া দ্বীপের তিন বাসিন্দাও প্রাণ হারান।

একই বছরের জুনে ব্রিটিশ বাহিনী দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। তবে দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ এখনো রয়েছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পরও ফকল্যান্ড প্রসঙ্গ আলোচনায় আসে। উদ্‌যাপনের সময় আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো সেলসো গ্যালারির সামনে একটি ব্যানার তুলে ধরেন। তাতে লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আর্হেন্তিনাস’, যার অর্থ ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’।

ব্যানারটি কোথা থেকে এসেছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন নিয়ে ফিফার তদন্তের প্রসঙ্গ সামনে আসে। সংস্থাটির বিধি অনুযায়ী, এ ধরনের প্রদর্শন নিয়মবিরুদ্ধ কি না, তা সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত হয়।

দেশে ফিরে গোলের গুরুত্ব বুঝতে পারেন লাউতারো

গোল করার পরপরই সেটির সম্পূর্ণ আবেগীয় তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারেননি লাউতারো। বিশ্বকাপের চাপ, ম্যাচের তীব্রতা এবং পরবর্তী ফাইনালের প্রস্তুতির ব্যস্ততায় মুহূর্তটি তখন পুরোপুরি অনুভব করার সুযোগ পাননি তিনি।

পরে দেশে ফিরে সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া থেকে গোলটির গভীর অর্থ বুঝতে পারেন। লাউতারো জানান, অনেকেই তাঁকে গোলটির জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তখনই উপলব্ধি করেন, ওই মুহূর্তটি মানুষের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তাঁর ভাষায়, এটি এমন এক স্মৃতি, যা তিনি সারা জীবন আগলে রাখবেন।

ফাইনালে হারলেও নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছিল আর্জেন্টিনা

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি আর্জেন্টিনার। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় দলটি।

লাউতারোর দাবি, ফাইনালে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচটি শারীরিক ও মানসিকভাবে দলকে ক্লান্ত করে দিয়েছিল। এরপরও ফাইনালে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান তাঁরা।

ফাইনাল নিয়ে সমালোচনার জবাবে লাউতারো বলেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁদের সুযোগ ছিল। দল যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, তা নিয়ে তাঁদের মনে কোনো সংশয় নেই। প্রতিপক্ষও ছিল শক্তিশালী।

ইতিহাসের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ের কথাও মনে করিয়ে দেয়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে দিয়েগো মারাদোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং তাঁর একক প্রচেষ্টায় করা বিখ্যাত গোল দুটি ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।

পুরো বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা নিয়ে লাউতারো জানান, প্রতিটি ম্যাচই ছিল কঠিন। টুর্নামেন্টজুড়ে সমর্থকদের সঙ্গে দলের গভীর সংযোগ তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনা এমন একটি দল, যারা কখনো হাল ছাড়ে না এবং সব সময় আরও ভালো করার চেষ্টা করে। দলের নেতা লিওনেল মেসিও তাঁদের প্রতিকূলতার মুখে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।

লাউতারোর বক্তব্যে স্পষ্ট, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচের স্মৃতি তাঁর কাছে শুধু একটি গোল বা জয় নয়; বরং ইতিহাস, আবেগ এবং দেশের মানুষের সঙ্গে ফুটবলের সম্পর্কেরও প্রতীক।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এনসিপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মনজুর আলম

1

এবার বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেলেন ভোজিনহা

2

ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে গোলের শীর্ষে জার্মানি

3

ওষুধের বিজ্ঞাপনের ছয় হাজার কোটি টাকা ডাক্তারের পকেটে

4

আমরা হারিনি, পদত্যাগে অস্বীকৃতি মমতার

5

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

6

হাভার্টজের শেষের গোলে আর্সেনালের জয়

7

রেফারিকে ‘জালিম’ বললেন মিশরের ফুটবলার জিকো

8

আলোচিত সেই রেফারি ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ পরিচালনা করবেন

9

ইরান অনুরোধ করেছিল তাই বড় হামলা বন্ধ থাকবে: ট্রাম্প

10

হরমুজ প্রণালিতে কড়া নিয়ন্ত্রণে ইরান

11

ইরানে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহু-সেনাপ্রধানের বিরোধ

12

আজ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন

13

বিজয় সরণির কলমিলতা বাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে

14

শিশুদের কান্নার শব্দ পুঁজি করে ইসরাইলি ফাঁদ

15

কন্যার সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের পক্ষে মিলন

16

পেলের রেকর্ড ভেঙে এবার মেসির পিছু নিয়েছেন এমবাপ্পে

17

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

18

অবসর ঘোষণা থেকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা-মেসির অবিশ্বাস্য

19

দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষেও খেলছে না নেইমার: অফিশিয়াল ঘোষ

20