ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শিশুদের কান্নার শব্দ পুঁজি করে ইসরাইলি ফাঁদ

লেবাননের এক শিশু |সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি ড্রোনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের দাবি, আকাশে টহলরত ড্রোনগুলো শিশুদের কান্না, নারীদের আর্তনাদ, অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন এমনকি ধর্মীয় তেলাওয়াতের শব্দ প্রচার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, এটি কেবল নজরদারি নয়, বরং এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ।

দক্ষিণ লেবাননের হাব্বুশ গ্রামের এক বাসিন্দা ও প্যারামেডিক হাশেম জানান, এক রাতে তিনি আকাশে উড়তে থাকা একটি ড্রোন থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। প্রথমে তিনি সাহায্যের জন্য কেউ ডাকছে বলে মনে করলেও পরে বুঝতে পারেন, এটি ড্রোন থেকে প্রচার করা রেকর্ড করা শব্দ। তার ভাষায়, এমন ঘটনা এখন আর ব্যতিক্রম নয়; বরং সীমান্তবর্তী বহু গ্রামে এটি নিয়মিত ঘটছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব শব্দের উদ্দেশ্য শুধু ভয় সৃষ্টি করা নয়। অনেক সময় মানুষের মানবিক প্রবৃত্তি—বিশেষ করে বিপদে কাউকে সাহায্য করতে এগিয়ে যাওয়ার মনোভাব—ব্যবহার করে তাদের বাইরে বের করে আনার চেষ্টা করা হয়। এতে একদিকে আতঙ্ক বাড়ে, অন্যদিকে মানুষের চলাচল ও অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

হাশেমের মতে, গভীর রাতে শিশুদের কান্নার মতো শব্দ শুনলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ সাহায্য করতে চাইবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই বুঝতে পারছেন যে এসব শব্দ বাস্তব নাও হতে পারে। ফলে বাসিন্দারা এক ধরনের মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন, যেখানে বাস্তব আর কৃত্রিম সংকেতের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে উঠছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের দাবি, এই কৌশল আগে গাজাতেও ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে ড্রোনের মাধ্যমে বিভিন্ন শব্দ সম্প্রচার করে মানুষের চলাচল পর্যবেক্ষণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের অনেক বাসিন্দা মনে করছেন, একই ধরনের পদ্ধতি এখন তাদের এলাকাতেও প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এই মনস্তাত্ত্বিক চাপের প্রভাব সম্পর্কে কথা বলেছেন ধ্বংসপ্রাপ্ত সীমান্ত শহর হুলার বাসিন্দা তারেক মাজানি। যুদ্ধের সময় বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর তিনি স্থানীয়দের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের দাবিতে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। তার অভিযোগ, একপর্যায়ে ড্রোনের মাধ্যমে প্রচারিত বার্তায় তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং স্থানীয়দের তার সঙ্গে যোগাযোগ না করার আহ্বান জানানো হয়।

মাজানির দাবি, এ ধরনের বার্তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায় না, বরং সামাজিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে যুদ্ধের ক্ষত শুধু অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, মানুষের মনস্তত্ত্ব ও সামাজিক বন্ধনেও গভীর প্রভাব ফেলে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক সংঘাতে সামরিক শক্তির পাশাপাশি তথ্য ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তারের কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ, যেখানে শব্দ, ভয় এবং অনিশ্চয়তা বেসামরিক মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে।

স্থানীয়দের ভাষায়, প্রতিদিন আকাশে ভেসে আসা অচেনা শব্দ এখন শুধু আতঙ্কের কারণ নয়, বরং এমন এক স্নায়ুচাপের প্রতীক, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ক্রমশ কঠিন করে তুলছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরান যুদ্ধ ও সময়সীমার চাপে ট্রাম্প

1

প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করলেন মনিরা শারমিন

2

বলসোনারোর সাজা কমানোর আইন স্থগিত করল ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট

3

বৈশ্বিক বাস্তবতায় জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়: অর্থমন্ত্রী

4

পাকিস্তানের ফার্স্ট লেডি বিবি আসিফা কি নির্দেশ করলেন

5

৪ মে পর্যন্ত টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস

6

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহ

7

বাংলাদেশসহ ৮ দেশকে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা দিল

8

তৃতীয় স্তরে নামল হামজার ক্লাব

9

ইনুর ১০ বছরের সাজা যথেষ্ট নয়: নাহিদ ইসলাম

10

রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি

11

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন ফুয়াদ

12

গোলশূন্য ড্র, তবুও সেমিফাইনালে আর্সেনাল

13

স্মার্টফোন শুধু যন্ত্র নয় বিশ্বস্ত সঙ্গী

14

গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে: মির্জা ফখরুল

15

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২

16

বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে স্পেনের তিন, আর্জেন্টিনার দুই, ব্

17

‘আমাকে অসম্মান করবেন না’ মেসির সেই মন্তব্য নিয়ে মুখ খুললেন র

18

‘ভাগ্যিস প্রেমের নাটক করার বয়স নাই’, আইনি নোটিশে ফারিয়ার কটা

19

গাবতলীতে কোরবানির হাটে পর্যাপ্ত পশুর সরবরাহ

20