সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্মৃতি সংরক্ষণে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত Isfahan University of Technology-এর ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে একটি যুদ্ধ জাদুঘরে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান Jafarollah Kalantari জানান, ধ্বংসপ্রাপ্ত এই স্থানটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে এটি দেশের ইতিহাসে বৈজ্ঞানিক অবকাঠামোর ওপর আঘাতের একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে নতুন ভবন নির্মাণ এবং আধুনিক সরঞ্জাম স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে আলাদা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Islamic Republic News Agency-এর তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও স্থাপনার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসফাহানের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত মার্চ মাসে সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী Tehranসহ সারা দেশে ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়, আবাসিক এলাকা এবং বেসামরিক অবকাঠামো এই হামলার প্রভাবের মুখে পড়ে।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন সংরক্ষণ করে ইতিহাসকে তুলে ধরার এই উদ্যোগ ইরানের জন্য একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই পরিকল্পনার মাধ্যমে শুধু পুনর্গঠন নয়, বরং যুদ্ধের প্রভাব ও বাস্তবতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছে দেশটি।
মন্তব্য করুন